ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। রাজ্যটির ১১টি জেলায় বন্যার পানিতে সাত লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে পাঁচটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার আসামের দুর্যোগ প্রতিবেদন ও তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (ডিআরআইএমএস) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যের কার্বি আংলং, গোলাঘাট, চরাইদেও, কামরূপ, শিবসাগর, জোরহাট, ডিব্রুগড়, নগাঁও, ধেমাজি, হোজাই ও কামরূপ (মেট্রো) জেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জেলার প্রায় ৯০০টি গ্রাম এখনো পুরোপুরি বন্যাকবলিত। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা শিবসাগর জেলায়, যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। এ ছাড়া চরাইদেও জেলায় ১ লাখ ১০ হাজার ৭৫৫ জন, জোরহাটে ৯৭ হাজার ৬৯০ জন এবং ডিব্রুগড়ে ১৩ হাজার ৩৯০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৪ হাজার ৮৯৭ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যায় আরও ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফলে চলতি মৌসুমে আসামে বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ১০৬টি ত্রাণশিবির এবং ৩৮১টি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র চালু করেছে। বর্তমানে এসব ত্রাণশিবিরে ২৪ হাজার ৪১৮ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ৮২৬ জন মানুষকে ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ১১১টি মেডিকেল দল, ৫৬টি নৌকা এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৪০৯ জন মানুষ ও ৩৫টি প্রাণীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। বন্যার পানিতে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৫টি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ৫০০টি হাঁস-মুরগিসহ মোট ৫৪০টি প্রাণী পানির স্রোতে ভেসে গেছে।
এদিকে রাজ্যের বুরহিদিহিং, দিখৌ, ধানসিরি (দক্ষিণ) ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ডিসাং নদীর পানি ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ বন্যাসীমা অতিক্রম করেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























