মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের তীব্রতা নতুন করে বাড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত মে মাসের পর এই প্রথম জ্বালানি তেলের মূল্য এই মাইলফলক অতিক্রম করল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার পর গত কয়েক দিনের ঊর্ধ্বগতির ধারাবাহিকতায় একদিনেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। এর ফলে সৌদি আরবের জন্য হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ব্যবহৃত বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পথটিও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শুধু তেল নয়, একই সঙ্গে দ্রুত বাড়ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও। যুক্তরাজ্যে গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য বর্তমানে প্রতি থার্মে প্রায় ১৫০ পেন্স, যা গত জুনের শেষ দিকে ছিল মাত্র ৯৮ পেন্সের কাছাকাছি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালে তেলের দাম কিছুটা কমে এসেছিল, এমনকি তা ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর আগের পর্যায়েও নেমে যায়। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দৃশ্যপট আবারও পুরোপুরি বদলে যায়। এ সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব এখনো কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তেলের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। এর ফলে সার্বিক পরিবহন ব্যয় বেড়ে খাদ্যসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উসকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ইতোমধ্যেই এর প্রভাব পড়েছে উন্নত দেশগুলোতে। গত আড়াই সপ্তাহে দেশটিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম প্রায় ৫ পেন্স বেড়ে গড়ে ১ দশমিক ৫৬ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ডিজেলের গড় দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ১ দশমিক ৭২ পাউন্ড। দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম আবারও ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা মাত্র এক মাস আগেও ছিল ৩ দশমিক ৯২ ডলার।
রিপোর্টারের নাম 

























