ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কারোপ: ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতির প্রভাব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের প্রায় ৬০টি প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্কারোপ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশও প্রভাবিত হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ১০ শতাংশের অস্থায়ী বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই কার্যকর হলো।

গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল রেজিস্টার’-এ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্কিন বাজারে প্রবেশ করা প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ আমদানিকৃত পণ্যের ওপর এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এবং আগেই জাতীয় নিরাপত্তার আওতায় শুল্ক থাকা খাতগুলোকে এই শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, দেশটির বাণিজ্য আইনের ‘৩০১ ধারা’র আওতায় নেওয়া এই পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি বেশ মজবুত এবং অতীতেও এই ধারায় নেওয়া সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টিকে গেছে।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য একটি অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল। শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে (ইডিটি) এই অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হয় এবং ঠিক একই সময় থেকে নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট (ইডিটি) পর্যন্ত পরিবহন বা ট্রানজিটে থাকা পণ্যগুলো নতুন এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কহারকে তিনটি মূল ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোসহ বেশ কিছু দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারিত হয়েছে, যা তাদের বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ শুল্কের সমন্বয়ে কার্যকর হবে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছে এবং এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই মানদণ্ড অনুসরণ করার সময় এসেছে। এই পদক্ষেপ মানবাধিকার রক্ষা এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক চর্চা রোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহজালাল বিমানবন্দরে ১১ কেজি গাঁজাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কারোপ: ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতির প্রভাব

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের প্রায় ৬০টি প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্কারোপ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশও প্রভাবিত হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ১০ শতাংশের অস্থায়ী বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই কার্যকর হলো।

গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল রেজিস্টার’-এ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্কিন বাজারে প্রবেশ করা প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ আমদানিকৃত পণ্যের ওপর এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এবং আগেই জাতীয় নিরাপত্তার আওতায় শুল্ক থাকা খাতগুলোকে এই শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, দেশটির বাণিজ্য আইনের ‘৩০১ ধারা’র আওতায় নেওয়া এই পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি বেশ মজবুত এবং অতীতেও এই ধারায় নেওয়া সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টিকে গেছে।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য একটি অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল। শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে (ইডিটি) এই অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হয় এবং ঠিক একই সময় থেকে নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট (ইডিটি) পর্যন্ত পরিবহন বা ট্রানজিটে থাকা পণ্যগুলো নতুন এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কহারকে তিনটি মূল ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোসহ বেশ কিছু দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারিত হয়েছে, যা তাদের বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ শুল্কের সমন্বয়ে কার্যকর হবে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছে এবং এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই মানদণ্ড অনুসরণ করার সময় এসেছে। এই পদক্ষেপ মানবাধিকার রক্ষা এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক চর্চা রোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।