সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিলেও অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আশানুরূপ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এ বৃত্তিপ্রাপ্ত ৯৪ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
কলমাকান্দা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ। ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে বিনামূল্যে বই, ব্যাগ ও জুতা সরবরাহ করছে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও পেনশন সুবিধাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু এত উদ্যোগের পরও অনেক স্কুলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “চারতলা বা দোতলা সুন্দর ভবন আছে, কিন্তু শ্রেণিকক্ষে মাত্র চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী—এমন চিত্রও আমরা দেখেছি, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। নিজেদের সন্তানদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও নিজের সন্তানের মতো দেখতে হবে। একজন কোমলমতি শিক্ষার্থীর সারা জীবনের মানসিকতা ও দায়বদ্ধতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, “যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের ছাত্র-ভাইয়েরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে, কলমাকান্দার চারজন মানুষ সেখানে রক্ত দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা আমাদের সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।”
অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাত তুলে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় শিক্ষার্থীরা অষ্টম শ্রেণিতেও বৃত্তি অর্জন এবং ভবিষ্যতে সুনাগরিক হিসেবে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা ময়মনসিংহ বিভাগের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম তালুকদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল আজম।
রিপোর্টারের নাম 
























