সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগজুড়ে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে তিনজনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে, যা চলতি বছরের শুরু থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯৪ জনে উন্নীত করেছে।
বৃহস্পতিবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের প্রকাশিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজন হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে চারজন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজন লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত শনাক্ত ৯৪ জন রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৬ জন হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এছাড়া সিলেট জেলায় ১৯ জন, সুনামগঞ্জে ১৭ জন এবং মৌলভীবাজারে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। অন্য জেলার তিনজন রোগীও সিলেট বিভাগের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ পরিস্থিতিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণ এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ প্রাণ হারানো শিশুটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। মৃত শিশুটির বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার গোপালপুর এলাকায়। অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সুনামগঞ্জ জেলায়, যেখানে ৪৮ জন শিশু মারা গেছে। এছাড়া সিলেটে ৩৬ জন এবং মৌলভীবাজারে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যু হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























