ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সিআইএ স্থাপনায় ইরানের নির্ভুল হামলা: রাশিয়ার সহায়তার গুঞ্জন

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও রাশিয়া প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু স্বীকার করেনি, তবে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের হামলায় রাশিয়া প্রকাশ্যে যা স্বীকার করেছে তার চেয়েও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর দিকে। যুদ্ধের তৃতীয় দিনে সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানায়, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এরপর ৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ‘সিএনএন’ জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা সদস্য ও সামরিক বিমানের অবস্থান শনাক্ত করতে তেহরানকে সহায়তা করছিল মস্কো।

সর্বশেষ বুধবার ‘রয়টার্স’ এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে অবস্থিত সিআইএর স্থাপনাসহ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য রুশ সম্পৃক্ততার তদন্ত শুরু করেছে। তাদের মতে, হামলাগুলোর কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা রাশিয়ার সহায়তার ইঙ্গিত দিতে পারে।

প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রায়েভস্কির মতে, ইরানের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এ ধরনের আশঙ্কা আগেও ছিল। কারণ ইরানের সাম্প্রতিক অনেক হামলাই অতীতের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ও নিখুঁত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইরানের নিজস্ব মহাকাশ-ভিত্তিক সক্ষমতা খুব শক্তিশালী নয়, যেখানে রাশিয়ার সক্ষমতা অনেক বেশি। সামরিক মানের পর্যাপ্ত উপগ্রহও ইরানের নেই। তাই ধারণা করা যায়, এ বিষয়ে তারা রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছে।’ তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, লক্ষ্য নির্বাচন ও তথ্য সংগ্রহে ইরানের নিজস্ব মানব গোয়েন্দা (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স) নেটওয়ার্কও রয়েছে, যা অনেক সময় গুরুত্ব পায় না।

যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, ইরানের সামরিক কার্যক্রমে রাশিয়ার সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক দিক উন্মোচন করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ককরোচ পার্টি, সময় চাইল মোদি সরকার

সিআইএ স্থাপনায় ইরানের নির্ভুল হামলা: রাশিয়ার সহায়তার গুঞ্জন

আপডেট সময় : ০২:৪২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও রাশিয়া প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু স্বীকার করেনি, তবে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের হামলায় রাশিয়া প্রকাশ্যে যা স্বীকার করেছে তার চেয়েও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর দিকে। যুদ্ধের তৃতীয় দিনে সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানায়, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এরপর ৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ‘সিএনএন’ জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা সদস্য ও সামরিক বিমানের অবস্থান শনাক্ত করতে তেহরানকে সহায়তা করছিল মস্কো।

সর্বশেষ বুধবার ‘রয়টার্স’ এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে অবস্থিত সিআইএর স্থাপনাসহ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য রুশ সম্পৃক্ততার তদন্ত শুরু করেছে। তাদের মতে, হামলাগুলোর কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা রাশিয়ার সহায়তার ইঙ্গিত দিতে পারে।

প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রায়েভস্কির মতে, ইরানের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এ ধরনের আশঙ্কা আগেও ছিল। কারণ ইরানের সাম্প্রতিক অনেক হামলাই অতীতের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ও নিখুঁত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইরানের নিজস্ব মহাকাশ-ভিত্তিক সক্ষমতা খুব শক্তিশালী নয়, যেখানে রাশিয়ার সক্ষমতা অনেক বেশি। সামরিক মানের পর্যাপ্ত উপগ্রহও ইরানের নেই। তাই ধারণা করা যায়, এ বিষয়ে তারা রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছে।’ তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, লক্ষ্য নির্বাচন ও তথ্য সংগ্রহে ইরানের নিজস্ব মানব গোয়েন্দা (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স) নেটওয়ার্কও রয়েছে, যা অনেক সময় গুরুত্ব পায় না।

যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, ইরানের সামরিক কার্যক্রমে রাশিয়ার সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক দিক উন্মোচন করে।