ভারতের দিল্লির রাজপথে প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে যখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছে, তখন তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়ছেন বলিউডের শীর্ষ সারির একাধিক জনপ্রিয় তারকা। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে কিংবা শিক্ষার্থীদের পক্ষে মুখ না খোলায় সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে কঠোর সমালোচনার শিকার হচ্ছেন তাঁরা। সেই সমালোচিত তালিকায় খান, কাপুর ও বচ্চন পরিবারের অনেকেই রয়েছেন। তবে এই পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম হিসেবে ধরা দিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। শাহরুখ খান, আমির খান থেকে শুরু করে অমিতাভ বচ্চন কিংবা কাপুর পরিবারের সদস্যরা যখন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে একেবারে নীরব ভূমিকা পালন করছেন, তখন নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিঘন ছবি শেয়ার করে সরাসরি বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ‘ভাইজান’। যা দেখে তাঁর অসংখ্য অনুরাগী তাঁকে কুর্নিশ জানিয়ে বলছেন, ‘টাইগার আভি জিন্দা হ্যায়’।
গত বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের এই চলমান আন্দোলন নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে কলম ধরেন সালমান খান। নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ছাত্রজীবনের একটি সাদাকালো স্মৃতিবিজড়িত ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘আন্দোলন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু শেষপর্যন্ত যেমন সহিংস রূপ নিল, সেটা সত্যিই দুঃখজনক! যারা আহত হয়েছেন, সেসব শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি রইল। প্রশ্নপত্র ফাঁস আদতেই শিক্ষাব্যবস্থার এক গুরুতর সমস্যা। তবে আমাকে এটা আনন্দ দিচ্ছে যে, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা একজোট হয়েছে এবং তাদের অভিভাবকরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন। ওরা দৃঢ় কণ্ঠে যে অবস্থান নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
তিনি আরও যোগ করে বলেন, ‘পড়াশোনা করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি একটি উন্নত ও শিক্ষিত ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ওদের এই নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও আগ্রহ সত্যিই প্রশংসনীয়। এই আন্দোলন, প্রতিবাদই এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ, এবং শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। ওরা সত্যিই সাহসী ও অদম্য। শিক্ষার প্রতি এই প্রজন্মের এমন একাগ্রতা ও উদ্দীপনা ভবিষ্যতে ভারতকে গর্বিত করবে।’
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েও কিন্তু একটি তাৎপর্যপূর্ণ সতর্কবাণী প্রদান করেছেন সালমান খান। বলিউডের এই অভিজ্ঞ তারকার ভাষ্য, ‘এই আন্দোলন মূলত শিক্ষার্থী ও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেকার একটি বিষয়, তাই এই আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এর কৃতিত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য। আমার বিশ্বাস, সরকারও তাদের পূর্ণ সহায়তা করবে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। আখেড়ে এটা সকলের জন্যেই ফলপ্রসূ। ইতিবাচক ফলের আশাই রাখছি আমি। যারা শিক্ষিত হতে চায়, সৃষ্টিকর্তা তাদের সকলের মঙ্গল করুন।’
রিপোর্টারের নাম 

























