সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামে পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে শতাধিক পরিবারের বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আকস্মিক ঢলের প্রবল স্রোতে অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে এবং ভেসে গেছে ঘরের আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখন স্বজনদের বাড়িতে কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
জানা গেছে, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও, বাঁশতলা, মাইঝহাটি, জঙ্গলবাড়ি, লাকমা, লালঘাট, চানপুর ও কলাগাঁও গ্রামগুলো পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বসতঘর বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ পরিবার এখনো প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ তাদের।
তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন জানান, গত কয়েক বছর আগে বজ্রপাতে স্বামীকে হারানোর পর পাথর ও কয়লার ডিপোতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে অনেক কষ্টে একটি ছোট্ট বসতঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে সেই ঘরটিও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। বর্তমানে ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। যেখানে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হয়, সেখানে নতুন করে ঘর নির্মাণ তার কাছে এখন এক দুঃস্বপ্ন।
রাবেয়া খাতুন বলেন, “অনেক কষ্ট করে ঘর বানিয়েছিলাম। ঢলের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। নিজের একটা ঘরই এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া।” একই ইউনিয়নের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন ও বিউটি আক্তারও তাদের বসতঘরের মারাত্মক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেলেও, পানি নেমে যাওয়ার পর ফিরে এসে দেখেন ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারা সরকারি সহায়তা পেলে নতুন করে ঘর নির্মাণ করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
সুনামগঞ্জের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মেহদি হাসান হৃদয় জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী দ্রুত তাদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























