ডায়াবেটিস বললেই সাধারণত কিডনি, চোখ, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকির কথা মনে আসে। তবে অনেকেই জানেন না যে, এই নীরব ঘাতক শরীরের হাড়, জয়েন্ট, পেশি, টেনডন ও লিগামেন্টেও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে কোলাজেন নামক প্রোটিনের গঠন পরিবর্তিত হয়, যার ফলে টেনডন ও লিগামেন্ট শক্ত ও অনমনীয় হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র রক্তনালি ও স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, রক্ত চলাচল কমে যায়, সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং ক্ষত শুকাতে দেরি হয়। এসব সম্মিলিত পরিবর্তনের ফলে অর্থোপেডিক সমস্যা দেখা দেয় বা বিদ্যমান রোগ আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাংলাদেশেও আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি, এবং আরও কয়েক কোটি মানুষ প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থায় রয়েছেন। তাই ডায়াবেটিসজনিত অর্থোপেডিক জটিলতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন অত্যন্ত জরুরি।
ডায়াবেটিসে যেসব অর্থোপেডিক রোগ বেশি দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে: কাঁধের ব্যথা বা ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’, যা ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে অত্যন্ত পরিচিত একটি সমস্যা। এতে কাঁধে ব্যথা, হাত ওঠাতে অসুবিধা এবং দৈনন্দিন কাজ যেমন জামা পরা বা চুল আঁচড়াতে কষ্ট হয়। আঙুল আটকে যাওয়া বা ‘ট্র্রিগার ফিঙ্গার’ও একটি সাধারণ সমস্যা, যেখানে আঙুল বাঁকানোর পর সোজা করতে গেলে আটকে যায় বা ‘ক্লিক’ শব্দ হয়। এটি টেনডনের চারপাশে মোটা হয়ে যাওয়ার কারণে ঘটে।
এছাড়াও হাতে ঝিনঝিনি, অবশ ভাব এবং রাতে ব্যথা বেড়ে যাওয়া ‘কার্পাল টানেল সিনড্রোমের’ লক্ষণ, যা ডায়াবেটিসে স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ায় বাড়ে। হাতের চামড়া শক্ত ও মোমের মতো হয়ে যাওয়া এবং আঙুল পুরোপুরি ভাঁজ বা সোজা করতে না পারা দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। হাতের তালুর টিস্যু শক্ত হয়ে আঙুল স্থায়ীভাবে বাঁকা হয়ে যাওয়া এবং জয়েন্টের সমস্যা, বিশেষ করে পায়ের হাড় ও জয়েন্ট বিকৃত হয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিসের অন্যতম ভয়ংকর অর্থোপেডিক জটিলতাগুলোর মধ্যে পড়ে, কারণ স্নায়ুর অনুভূতি কমে যাওয়ায় রোগী ব্যথা অনুভব করতে পারেন না।
রিপোর্টারের নাম 

























