ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

জুলাই বিপ্লব ও শেখ হাসিনার পতন: নেপথ্যে ছিল একদল সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীর সমর্থন

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় যখন রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হচ্ছিল, তখন দেশের একদল শীর্ষ ব্যবসায়ী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে নির্লজ্জ সমর্থন দিয়েছিলেন। তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমাতে যখন সাধারণ ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছিল, তখন এই ব্যবসায়ীরা আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ ও ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে দমন-পীড়নের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন। এমনকি উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসিনাকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা।

জানা গেছে, গত ২২ জুলাই তড়িঘড়ি করে আয়োজিত এক বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করেন। সাধারণ ছাত্রদের ওপর চলা গণহত্যার প্রতিবাদ না করে তারা উল্টো কারফিউ এবং ইন্টারনেট বন্ধের মতো সিদ্ধান্তগুলোকে স্বাগত জানান। ব্যবসায়ী নেতাদের এই উস্কানিমূলক অবস্থানের পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যার ফলে প্রাণ হারান শত শত মানুষ।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাকে সমর্থন দেওয়া সেই ব্যবসায়ীদের অনেকেই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের একটি অংশ বর্তমানে ভোল পাল্টে নতুন সরকারের সুনজরে আসার চেষ্টা করছে। তবে সচেতন মহলের দাবি, যারা স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করে গণহত্যার পথ প্রশস্ত করেছেন, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজয়ী স্প্যানিশ ফুটবল দলের রাজকীয় সংবর্ধনা: মাদ্রিদের রাজপথে লাখো মানুষের উল্লাস

জুলাই বিপ্লব ও শেখ হাসিনার পতন: নেপথ্যে ছিল একদল সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীর সমর্থন

আপডেট সময় : ১০:২২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় যখন রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হচ্ছিল, তখন দেশের একদল শীর্ষ ব্যবসায়ী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে নির্লজ্জ সমর্থন দিয়েছিলেন। তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমাতে যখন সাধারণ ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছিল, তখন এই ব্যবসায়ীরা আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ ও ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে দমন-পীড়নের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন। এমনকি উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসিনাকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা।

জানা গেছে, গত ২২ জুলাই তড়িঘড়ি করে আয়োজিত এক বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করেন। সাধারণ ছাত্রদের ওপর চলা গণহত্যার প্রতিবাদ না করে তারা উল্টো কারফিউ এবং ইন্টারনেট বন্ধের মতো সিদ্ধান্তগুলোকে স্বাগত জানান। ব্যবসায়ী নেতাদের এই উস্কানিমূলক অবস্থানের পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যার ফলে প্রাণ হারান শত শত মানুষ।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাকে সমর্থন দেওয়া সেই ব্যবসায়ীদের অনেকেই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের একটি অংশ বর্তমানে ভোল পাল্টে নতুন সরকারের সুনজরে আসার চেষ্টা করছে। তবে সচেতন মহলের দাবি, যারা স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করে গণহত্যার পথ প্রশস্ত করেছেন, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।