রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচাড়িপাড়া গ্রামে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। গত কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙনে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে শত শত বিঘা আবাদি জমিও তিস্তার করাল গ্রাসে বিলীন হয়েছে। পানি কমতে শুরু করার পর ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে কাচাড়িপাড়া এলাকায় দেখা যায়, তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের মাটি মুহূর্তেই ধসে পড়ছে। অনেক বাড়ির আঙিনা ইতিমধ্যেই নদীতে বিলীন হয়েছে এবং কোথাও কোথাও ভাঙন বসতঘরের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় কেউ ঘরের টিন খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ ইট, কাঠ ও গৃহস্থালির মালামাল স্থানান্তর করছেন। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে সামান্য জিনিসপত্র নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মোত্তালিব, সুরুজ মিয়া ও আনোয়ার হোসেনসহ অন্তত আটটি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া শত বিঘা ফসলি জমি নদীতে হারিয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অসংখ্য বসতবাড়ি ও কৃষিজমি।
ক্ষতিগ্রস্ত মোত্তালিব বলেন, “চোখের সামনে আমার বসতবাড়িটা নদীতে তলিয়ে গেল। সারাজীবনের কষ্টার্জিত সবকিছু মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, সেই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি।” সুরুজ মিয়া এবং আনোয়ার হোসেনও একই ধরনের হতাশা ব্যক্ত করে দ্রুত সরকারি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, অন্যথায় আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 























