ভারতের ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) তাদের মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়াকে পদ থেকে অপসারণ করেছে। সংসদ অভিমুখে দলের বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় বার্গার খাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দলটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দাহিয়ার এই কর্মকাণ্ড ‘গভীরভাবে অসংবেদনশীল’ এবং তা দলের আদর্শ ও নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা আরও উল্লেখ করে যে, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তাকে দলের মুখপাত্রের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সব ধরনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অধিকাংশই ছিলেন তরুণ শিক্ষার্থী। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা সংসদ অভিমুখে মিছিল করার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। এই কর্মসূচির মধ্যেই দাহিয়াকে বার্গার খেতে দেখা গেছে এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
তবে সমালোচনার জবাবে মঙ্গলবার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন বিজেতা দাহিয়া। সেখানে তিনি তার অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, “আমি বার্গার কেন খেয়েছি? মানুষ বার্গার খায় হয় ক্ষুধার কারণে, নয়তো খেতে ইচ্ছা করে। এটিই স্বাভাবিক।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাকে এত জবাবদিহির মধ্যে ফেলছেন কেন? আন্দোলনকারী হওয়া কি কোনো চাকরি? আমাকে কি আপনারা এই পদে নির্বাচিত করেছেন? সরকারের কাছে জবাবদিহি চান, আমার কাছে নয়। আমি বোকা মানুষকে খুশি করার জন্য রাজনীতিতে আসিনি।” ভিডিওতে দাহিয়া দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, “আমি যা করছি, দেশের জন্য নিজের ইচ্ছায় করছি। আমি কারও কাছে জবাবদিহি নই। আর আমি বার্গার খাব।”
উল্লেখ্য, সোমবার দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভে অংশ নেন সিজেপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। বিক্ষোভকারীদের যাত্রা ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত ১৭৮ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ সদস্য। এছাড়া প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
রিপোর্টারের নাম 
























