২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ জেতার পর থেকেই স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিকে নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। কারণ, টুর্নামেন্টে তার কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট ছিল না, যা এই পুরস্কারের ইতিহাসে বিরল। অন্যদিকে, ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি আট গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছিলেন, যা তাকে গোল্ডেন বলের প্রধান দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
পরিসংখ্যান মেসির পক্ষেই কথা বলে। গোল (৮) ও অ্যাসিস্টে (৪) মেসি ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা। গোল তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন শীর্ষদের একজন এবং আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার সরাসরি অবদান ছিল। সেমিফাইনাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে দলকে ফাইনালে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। বিশ্বকাপ শেষে বিভিন্ন টেলিভিশন বিশ্লেষণেও কয়েকজন সাবেক তারকা মেসির পক্ষেই মত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, গোল্ডেন বলের মতো পুরস্কারে কেবল দলগত সাফল্য নয়, একজন খেলোয়াড়ের আক্রমণাত্মক প্রভাব, ম্যাচ নির্ধারণী অবদান এবং ধারাবাহিকতাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
তবে রদ্রির পক্ষেও শক্তিশালী যুক্তি রয়েছে। ফিফার কারিগরি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্পেনের খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণ থেকে আক্রমণের সংযোগ স্থাপন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া এবং বল বণ্টনের ক্ষেত্রে রদ্রির ভূমিকা ছিল অসাধারণ। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে, আর সেই রক্ষণাত্মক আধিপত্যের কেন্দ্রে ছিলেন এই মিডফিল্ডার। তিনি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৭৫৩টি পাস সম্পন্ন করেন (৯৪ শতাংশ সফলতা)। ফাইনালে তিনি ১০৫টির মধ্যে ১০১টি পাস সফল করেন এবং ৮০ শতাংশ সময়েই প্রতিপক্ষকে সুযোগ দেননি। গোল বা অ্যাসিস্ট না থাকলেও ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট।
স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া পুরস্কার ঘোষণার পর সতীর্থের পক্ষ নিয়ে বলেন, ‘সবকিছু শুধু গোল বা অ্যাসিস্ট দিয়ে বিচার করা যায় না। রদ্রি আমাদের নেতা। মাঠে সে যা করেছে, সেটাই আমাদের বিশ্বকাপ জেতার ভিত্তি।’ অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক প্রশ্ন তুলেছেন, গোল্ডেন বলের মানদণ্ড কি বদলে গেছে?
রিপোর্টারের নাম 






















