চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে চায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এর মধ্যে দুটি সড়ক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সিলিমপুর আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে, আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় সিডিএ এই প্রস্তাবে সায় দেয়নি এবং সেনাবাহিনীকে বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
সিডিএ সূত্র জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুর একটি স্পর্শকাতর এলাকা। এই এলাকার সঙ্গে একটি শান্ত-সংরক্ষিত আবাসিক এলাকার সরাসরি সংযোগ ঘটানো হলে তা সিলিমপুর আবাসিকের জন্য নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই স্থানীয় প্লট মালিকদের পরামর্শে বিকল্প স্থানে সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সিডিএ এবং প্লট মালিকেরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত সড়ক স্থায়ী হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
মঙ্গলবার সকালে সিলিমপুর আবাসিকের প্লট মালিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে সড়ক প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুরের সড়কটি মূল আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে করার সুযোগ নেই। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে খালের পাড় ধরে সাময়িকভাবে একটি অস্থায়ী পথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে, তবে স্থায়ী কোনো সড়ক আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে না করাই ভালো। সিডিএ সেনাবাহিনীকে বিকল্প স্থান দেখিয়ে দিয়েছে এবং প্রস্তাবিত বিকল্প রুটের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে তারা পরে সিডিএকে হালনাগাদ অগ্রগতি জানাবে।
মতবিনিময় সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান সিলিমপুর আবাসিক এলাকাটিকে একটি বাসযোগ্য, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি স্থানীয় অধিবাসীদের খালের পানিতে ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে, জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে এবং সিডিএর ইমারত বিধিমালা মেনে ভবন নির্মাণের আহ্বান জানান। এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর পরামর্শও দেন তিনি। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস ও পানি সংকটের সুরাহার আশ্বাস দেন সিডিএ চেয়ারম্যান। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পানির সংযোগ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং ওয়াসা দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























