ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পাল্টা হামলা: কৌশল ও কারণ বিশ্লেষণ

যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবে ইরান সরাসরি মার্কিন নৌবহর বা ইসরায়েলে আঘাত হানার পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মতো দেশগুলোতে এই হামলা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত না করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্যই ইরান এই কৌশল অবলম্বন করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের রেলপথ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং খাবার পানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনের বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি শোধনাকারে হামলা চালিয়েছে। লেবাননের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক ইলিয়াস হান্না আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবহরে সরাসরি হামলা চালানো সামরিকভাবে অত্যন্ত কঠিন, কারণ সেগুলো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সুরক্ষিত। তাছাড়া, মার্কিন জাহাজে হামলা চালালে ওয়াশিংটন থেকে যে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, তা এড়াতে ইরান এই বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে।

অন্যদিকে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ের শিক্ষক আতিফে তাঘিয়ানি দাবি করেছেন যে, মার্কিন বাহিনী উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরান সেই সব ভূমিতে পাল্টা হামলা চালানোর অধিকার রাখে। তবে কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল-শায়জি এই দাবিকে ইরানের ‘প্রচারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সমস্ত হামলা উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘জর্জেস ডব্লিউ বুশ’ ও ‘আব্রাহাম লিংকন’ থেকে চালানো হচ্ছে। উপসাগরীয় কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেয়নি এবং এ বিষয়ে তারা তেহরানকে স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছে।

আল-শায়জির মতে, ইরান কড়া গরমে কুয়েতের প্রধান ভরসা পানি শোধনাকারে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করছে। তিনি মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিশানা বানিয়ে ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধে রাজি করানোর ইরানের এই চেষ্টা একটি ব্যর্থ কৌশল। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-ওতাইবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কোনো পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চায় না। তাই উভয় পক্ষই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরে একাধিক মামলার আসামি যুবলীগ নেতা নাঈম খান গ্রেপ্তার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পাল্টা হামলা: কৌশল ও কারণ বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ১২:২৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবে ইরান সরাসরি মার্কিন নৌবহর বা ইসরায়েলে আঘাত হানার পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মতো দেশগুলোতে এই হামলা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত না করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্যই ইরান এই কৌশল অবলম্বন করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের রেলপথ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং খাবার পানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনের বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি শোধনাকারে হামলা চালিয়েছে। লেবাননের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক ইলিয়াস হান্না আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবহরে সরাসরি হামলা চালানো সামরিকভাবে অত্যন্ত কঠিন, কারণ সেগুলো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সুরক্ষিত। তাছাড়া, মার্কিন জাহাজে হামলা চালালে ওয়াশিংটন থেকে যে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, তা এড়াতে ইরান এই বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে।

অন্যদিকে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ের শিক্ষক আতিফে তাঘিয়ানি দাবি করেছেন যে, মার্কিন বাহিনী উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরান সেই সব ভূমিতে পাল্টা হামলা চালানোর অধিকার রাখে। তবে কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল-শায়জি এই দাবিকে ইরানের ‘প্রচারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সমস্ত হামলা উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘জর্জেস ডব্লিউ বুশ’ ও ‘আব্রাহাম লিংকন’ থেকে চালানো হচ্ছে। উপসাগরীয় কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেয়নি এবং এ বিষয়ে তারা তেহরানকে স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছে।

আল-শায়জির মতে, ইরান কড়া গরমে কুয়েতের প্রধান ভরসা পানি শোধনাকারে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করছে। তিনি মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিশানা বানিয়ে ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধে রাজি করানোর ইরানের এই চেষ্টা একটি ব্যর্থ কৌশল। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-ওতাইবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কোনো পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চায় না। তাই উভয় পক্ষই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করছে।