ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

এক সেনা অফিসারের ধর্মবিশ্বাসের শাস্তি: ভারতের উগ্রবাদের নগ্ন রূপ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ১০৭ বার পড়া হয়েছে

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২৫ নভেম্বর ২০২৫-এ এক বিতর্কিত রায় দিয়েছে। খ্রিস্টান সেনা কর্মকর্তা স্যামুয়েল কামালেসানকে সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, কারণ তিনি তাঁর রেজিমেন্টের মন্দিরে প্রবেশ করে পূজা করতে অস্বীকৃতি জানান। আদালত এই বহিষ্কার বহাল রেখে জানায় একজন সেনা অফিসার ইউনিফর্ম পরে নিজের ধর্মের “ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা” দিতে পারেন না।

প্রধান বিচারপতি সুর্যকান্ত বলেন, “আপনি আপনার সৈন্যদের অপমান করেছেন, আপনি নিজের ধর্মকে ইউনিফর্মের উপরে রেখেছেন।” অর্থাৎ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নয়, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলাই এখন প্রধান। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি করা ভারতীয় সেনাবাহিনী যদি অফিসারদের মন্দিরে পূজায় বাধ্য করে, তাহলে সেটি কতটা ধর্মনিরপেক্ষ?

সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ নাগরিককে নিজের ধর্ম পালনের অধিকার দেয়।
তবু আদালত বলেছে, “Article 25 protects essential religious features, not every sentiment।”
এই ব্যাখ্যা আসলে রাষ্ট্রীয় হিন্দুত্ববাদের আরেক প্রকাশ, যেখানে সংখ্যালঘু ধর্মবিশ্বাসকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা হচ্ছে।

সরকারি যুক্তি ছিল সৈন্যরা দেবতার উপাসনা থেকেই অনুপ্রেরণা পায় কিন্তু এই যুক্তি সামরিক পেশাদারিত্বকে ধর্মীয় আবেগে পরিণত করে। এতে সেনাবাহিনী নয়, তৈরি হয় এক ধর্মীয় বাহিনী।

স্যামুয়েল কামালেসান ধর্মের নামে বিভাজন নয়, বরং মানবিক ঐক্যে বিশ্বাস করতেন। তাঁর এই অবস্থানকে “অশৃঙ্খলা” বলা আসলে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ উন্মোচন করেছে।

আজকের ভারত তাই আর সংবিধানের ভারত নয়, এটি এমন এক রাষ্ট্র, যেখানে হিন্দুত্ববাদই “দেশপ্রেম”, আর ধর্মীয় স্বাধীনতা এখন “অপরাধ”।

স্যামুয়েল কামালেসানের ঘটনা সেই উগ্র বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি, যেখানে বিশ্বাস নয়, বশ্যতাই এখন কর্তব্য।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য বৈষম্য দূর করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

এক সেনা অফিসারের ধর্মবিশ্বাসের শাস্তি: ভারতের উগ্রবাদের নগ্ন রূপ

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২৫ নভেম্বর ২০২৫-এ এক বিতর্কিত রায় দিয়েছে। খ্রিস্টান সেনা কর্মকর্তা স্যামুয়েল কামালেসানকে সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, কারণ তিনি তাঁর রেজিমেন্টের মন্দিরে প্রবেশ করে পূজা করতে অস্বীকৃতি জানান। আদালত এই বহিষ্কার বহাল রেখে জানায় একজন সেনা অফিসার ইউনিফর্ম পরে নিজের ধর্মের “ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা” দিতে পারেন না।

প্রধান বিচারপতি সুর্যকান্ত বলেন, “আপনি আপনার সৈন্যদের অপমান করেছেন, আপনি নিজের ধর্মকে ইউনিফর্মের উপরে রেখেছেন।” অর্থাৎ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নয়, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলাই এখন প্রধান। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি করা ভারতীয় সেনাবাহিনী যদি অফিসারদের মন্দিরে পূজায় বাধ্য করে, তাহলে সেটি কতটা ধর্মনিরপেক্ষ?

সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ নাগরিককে নিজের ধর্ম পালনের অধিকার দেয়।
তবু আদালত বলেছে, “Article 25 protects essential religious features, not every sentiment।”
এই ব্যাখ্যা আসলে রাষ্ট্রীয় হিন্দুত্ববাদের আরেক প্রকাশ, যেখানে সংখ্যালঘু ধর্মবিশ্বাসকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা হচ্ছে।

সরকারি যুক্তি ছিল সৈন্যরা দেবতার উপাসনা থেকেই অনুপ্রেরণা পায় কিন্তু এই যুক্তি সামরিক পেশাদারিত্বকে ধর্মীয় আবেগে পরিণত করে। এতে সেনাবাহিনী নয়, তৈরি হয় এক ধর্মীয় বাহিনী।

স্যামুয়েল কামালেসান ধর্মের নামে বিভাজন নয়, বরং মানবিক ঐক্যে বিশ্বাস করতেন। তাঁর এই অবস্থানকে “অশৃঙ্খলা” বলা আসলে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ উন্মোচন করেছে।

আজকের ভারত তাই আর সংবিধানের ভারত নয়, এটি এমন এক রাষ্ট্র, যেখানে হিন্দুত্ববাদই “দেশপ্রেম”, আর ধর্মীয় স্বাধীনতা এখন “অপরাধ”।

স্যামুয়েল কামালেসানের ঘটনা সেই উগ্র বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি, যেখানে বিশ্বাস নয়, বশ্যতাই এখন কর্তব্য।