ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পাহাড় ধস: বিলীন হওয়ার শঙ্কায় ত্রিপুরা পল্লী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে অবস্থিত ত্রিপুরা পল্লী এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ছড়ার তীব্র স্রোতে টিলা ধসে পড়ায় ওই এলাকার ২৪টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনের ফলে বসতভিটা, চলাচলের রাস্তা এবং পুরো পল্লীটিই এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্যানের ভেতরে গড়ে ওঠা এই পল্লীর চারপাশের মাটিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। পল্লীবাসীদের যাতায়াতের একমাত্র সেতুটির এক পাশের মাটি সরে যাওয়ায় সেটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয়দের অত্যন্ত দুর্গম পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই পাহাড়ি ছড়ার পানি বেড়ে গিয়ে বাইরের জগতের সাথে পল্লীর যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যার ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের চিকিৎসা এবং যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ত্রিপুরা পল্লীর প্রধান বা হেডম্যান চিত্তরঞ্জন দেববর্মা জানান, এই পাহাড়ই তাদের জন্মস্থান এবং জীবন-জীবিকার একমাত্র উৎস। তারা পাহাড় রক্ষা করার চেষ্টা করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন তারা নিরুপায়। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বড় ধরনের ধসে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো পল্লীটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বনের জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতখানে মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে নিখোঁজ অর্ধশতাধিক মহিষ, খামারিদের উদ্বেগ

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পাহাড় ধস: বিলীন হওয়ার শঙ্কায় ত্রিপুরা পল্লী

আপডেট সময় : ০৭:০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে অবস্থিত ত্রিপুরা পল্লী এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ছড়ার তীব্র স্রোতে টিলা ধসে পড়ায় ওই এলাকার ২৪টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনের ফলে বসতভিটা, চলাচলের রাস্তা এবং পুরো পল্লীটিই এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্যানের ভেতরে গড়ে ওঠা এই পল্লীর চারপাশের মাটিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। পল্লীবাসীদের যাতায়াতের একমাত্র সেতুটির এক পাশের মাটি সরে যাওয়ায় সেটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয়দের অত্যন্ত দুর্গম পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই পাহাড়ি ছড়ার পানি বেড়ে গিয়ে বাইরের জগতের সাথে পল্লীর যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যার ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের চিকিৎসা এবং যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ত্রিপুরা পল্লীর প্রধান বা হেডম্যান চিত্তরঞ্জন দেববর্মা জানান, এই পাহাড়ই তাদের জন্মস্থান এবং জীবন-জীবিকার একমাত্র উৎস। তারা পাহাড় রক্ষা করার চেষ্টা করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন তারা নিরুপায়। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বড় ধরনের ধসে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো পল্লীটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বনের জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।