ঢাকা ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিমান দুর্ঘটনায় ৩৬ প্রাণহানি: পাইলটের প্রশিক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে গুরুতর ঘাটতি ছিল, তদন্ত প্রতিবেদনে खुलासा

গত বছর জুলাই মাসে ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ৩৬ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছিল। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে পাইলটের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে গুরুতর ঘাটতি এবং তার গ্রাউন্ড সুপারভাইজার বা অফিসার কমান্ডিংয়ের পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাবকে দায়ী করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিশনের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক সচিব এ কে এম জাফর উল্লা খানকে প্রধান করে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় তদন্ত শেষে কমিশন তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জমা দেয়। এই প্রতিবেদনে বিধ্বস্ত বিমানটি উড্ডয়নের আগে এবং সাত মিনিটের উড্ডয়নকালে কী ঘটেছিল তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

কমিশন বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সহ অন্যান্য সংস্থার গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করেছে এবং সেগুলোকে নিজেদের মূল প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করেছে। দুর্ঘটনার পরপরই শিশুসহ এত বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও, সরকারের গঠিত এই তদন্ত কমিশনের সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তৎকালীন উপদেষ্টা পরিষদে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুর্ঘটনা কবলিত ভবনটিতে মাত্র একটি বের হওয়ার পথ বা সিঁড়ি ছিল। বিমানটি ঠিক সেই সিঁড়ির সামনেই বিধ্বস্ত হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় স্কুলের ২৮ জন শিশু শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। এর সঙ্গে বিমানের পাইলট, স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকদের মৃত্যু যোগ করলে মোট ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন মোড়: সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণা

বিমান দুর্ঘটনায় ৩৬ প্রাণহানি: পাইলটের প্রশিক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে গুরুতর ঘাটতি ছিল, তদন্ত প্রতিবেদনে खुलासा

আপডেট সময় : ০৮:০০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

গত বছর জুলাই মাসে ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ৩৬ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছিল। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে পাইলটের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে গুরুতর ঘাটতি এবং তার গ্রাউন্ড সুপারভাইজার বা অফিসার কমান্ডিংয়ের পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাবকে দায়ী করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিশনের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক সচিব এ কে এম জাফর উল্লা খানকে প্রধান করে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় তদন্ত শেষে কমিশন তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জমা দেয়। এই প্রতিবেদনে বিধ্বস্ত বিমানটি উড্ডয়নের আগে এবং সাত মিনিটের উড্ডয়নকালে কী ঘটেছিল তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

কমিশন বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সহ অন্যান্য সংস্থার গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করেছে এবং সেগুলোকে নিজেদের মূল প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করেছে। দুর্ঘটনার পরপরই শিশুসহ এত বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও, সরকারের গঠিত এই তদন্ত কমিশনের সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তৎকালীন উপদেষ্টা পরিষদে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুর্ঘটনা কবলিত ভবনটিতে মাত্র একটি বের হওয়ার পথ বা সিঁড়ি ছিল। বিমানটি ঠিক সেই সিঁড়ির সামনেই বিধ্বস্ত হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় স্কুলের ২৮ জন শিশু শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। এর সঙ্গে বিমানের পাইলট, স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকদের মৃত্যু যোগ করলে মোট ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।