সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পিলখানায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বাহিনীর সদস্যদের অপারেশনাল সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিজিবি সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
সোমবার সকাল ১১টায় বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বাহিনীর একটি চৌকস দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কিত একটি বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে পিলখানার শহীদ শাকিল আহমেদ হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। সভায় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেসিও, অন্যান্য পদবির সদস্য এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, সারা দেশে বিজিবির বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) কর্মরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের প্রতি দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বিজিবি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান এবং মানবপাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে, বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার, সীমান্তবর্তী জনগণের আস্থা অর্জন, দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে মানবিক ভূমিকা পালন এবং সর্বক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন অনুসরণের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যরা ভবিষ্যতেও শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















