চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ২৩ হাজার ৭৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তালিকায় ঘরবাড়ি, সড়ক, কৃষি, মৎস্য, বনাঞ্চল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র, শিক্ষাকেন্দ্র, বিদ্যুৎলাইন, গবাদিপশু, মাছের ঘের ও পুকুর, ফসলি জমি, কালভার্ট, সেতু-ব্রিজ, রাস্তাঘাটসহ ১৩টি খাতে মোট ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে।
টানা ছয় দিনের প্রবল বর্ষণে টঙ্কাবতী ও ডলু, হাঙর নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যার প্রভাবে ৯টি ইউনিয়নের ২৩ হাজার ৭৫০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৮৩ কিলোমিটার পাকা-কাঁচা ও ইটের খোয়া দ্বারা নির্মিত রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারটি ব্রিজ, ২০টি কালভার্ট, ১৮৪ হেক্টর শস্য ক্ষেত, ১৩৫ হেক্টর বীজতলা, ১ হাজার ৬৫০টি পুকুর, ১ হাজার ১৮০টি কাঁচা বাড়ি, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০টি উচ্চ বিদ্যালয়, তিনটি কলেজ, পাঁচটি মাদরাসা, ১৫টি কমিউনিটি বিদ্যালয়, একটি ক্লিনিক, পাঁচটি কমিউনিটি ক্লিনিক, ২০টি মসজিদ, তিনটি মন্দির, ১৫৪ হেক্টর বনায়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
চুনতি ইউনিয়নের আব্দুল গফুর জানান, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে তার বাড়ি ভেঙে গেছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পানির ওপরই বসবাস করছেন এবং রান্নার পরিবেশ না থাকায় শুকনা খাবার খেয়ে দিন পার করছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদ আহমেদ জাকির জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৫ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ৫০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও দানশীল ব্যক্তিরাও বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে আরও ১৫ টন চাল ও ১ হাজার ২০০ বান্ডিল টিনের চাহিদা রয়েছে এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















