ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়: কোচ দে লা ফুয়েন্তের চোখে দলগত সংহতির জয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রোমাঞ্চকর এক ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের গোলে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবলের বিশ্বসেরার মুকুট পরল স্পেন। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে দলের অটুট সংহতি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন স্পেনের মাস্টারমাইন্ড কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মূল্যবোধই এই জয় এনে দিয়েছে।

৬৫ বছর বয়সে স্পেনকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা উপহার দিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচ হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন। এর আগে তিনি ইউরো ২০২৪ শিরোপাও স্পেনের ঘরে তুলেছিলেন। বর্তমানে তার দল সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা ৩৮টি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে, যা ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার যেকোনো দেশের জন্য একটি নতুন রেকর্ড। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতীতে মানুষ ফুটবলারদের মেধা, দক্ষতা ও ভালো মানুষ হওয়া দেখে বিস্মিত হতো। কিন্তু আমরাই সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ দল, আর এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের খেলোয়াড়দের পারস্পরিক সংহতি ও মূল্যবোধের কারণে।’

অতিরিক্ত সময়ে রক্ষণাত্মক আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় ছিনিয়ে নিয়েছে স্পেন। ম্যাচের ৯০+৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। এরপর বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের কাছ থেকে আসে জয়সূচক গোলটি, যা টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের দলগত মানসিকতারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দে লা ফুয়েন্তে আরও বলেন, ‘আমি এই প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত, যারা এই দর্শনকে বুকে ধারণ করে বড় হয়েছে, বিশ্বাস রেখেছে, এটিকে আরও উন্নত করেছে এবং একটি দল ও পরিবার হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা অসাধারণ ও ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারী বিশ্বমানের ফুটবলার।’

বিশ্বজয়ী স্পেনের কোচ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে যোগ করেন, ‘আমি সত্যিই খুব আবেগপ্রবণ। পেছনে তাকালে এবং ওদের কথা ভাবলে মনে হয় – এই প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা সবকিছু জিতেছি, একেবারেই সবকিছু।’ ২০৩০ সালের টুর্নামেন্টে কোচ হিসেবে থাকবেন কিনা জানতে চাইলে দে লা ফুয়েন্তে জানান, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি কিছুটা সময় নেবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম সেখানেই আছি, আমাদের খেলোয়াড়দের পেয়ে আমরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছি। আমাদের কোনো তাড়া নেই, আমাদের এখন এই মুহূর্তটি উপভোগ করতে হবে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতখানে মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে নিখোঁজ অর্ধশতাধিক মহিষ, খামারিদের উদ্বেগ

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়: কোচ দে লা ফুয়েন্তের চোখে দলগত সংহতির জয়

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

রোমাঞ্চকর এক ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের গোলে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবলের বিশ্বসেরার মুকুট পরল স্পেন। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে দলের অটুট সংহতি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন স্পেনের মাস্টারমাইন্ড কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মূল্যবোধই এই জয় এনে দিয়েছে।

৬৫ বছর বয়সে স্পেনকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা উপহার দিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচ হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন। এর আগে তিনি ইউরো ২০২৪ শিরোপাও স্পেনের ঘরে তুলেছিলেন। বর্তমানে তার দল সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা ৩৮টি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে, যা ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার যেকোনো দেশের জন্য একটি নতুন রেকর্ড। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতীতে মানুষ ফুটবলারদের মেধা, দক্ষতা ও ভালো মানুষ হওয়া দেখে বিস্মিত হতো। কিন্তু আমরাই সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ দল, আর এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের খেলোয়াড়দের পারস্পরিক সংহতি ও মূল্যবোধের কারণে।’

অতিরিক্ত সময়ে রক্ষণাত্মক আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় ছিনিয়ে নিয়েছে স্পেন। ম্যাচের ৯০+৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। এরপর বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের কাছ থেকে আসে জয়সূচক গোলটি, যা টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের দলগত মানসিকতারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দে লা ফুয়েন্তে আরও বলেন, ‘আমি এই প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত, যারা এই দর্শনকে বুকে ধারণ করে বড় হয়েছে, বিশ্বাস রেখেছে, এটিকে আরও উন্নত করেছে এবং একটি দল ও পরিবার হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা অসাধারণ ও ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারী বিশ্বমানের ফুটবলার।’

বিশ্বজয়ী স্পেনের কোচ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে যোগ করেন, ‘আমি সত্যিই খুব আবেগপ্রবণ। পেছনে তাকালে এবং ওদের কথা ভাবলে মনে হয় – এই প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা সবকিছু জিতেছি, একেবারেই সবকিছু।’ ২০৩০ সালের টুর্নামেন্টে কোচ হিসেবে থাকবেন কিনা জানতে চাইলে দে লা ফুয়েন্তে জানান, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি কিছুটা সময় নেবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম সেখানেই আছি, আমাদের খেলোয়াড়দের পেয়ে আমরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছি। আমাদের কোনো তাড়া নেই, আমাদের এখন এই মুহূর্তটি উপভোগ করতে হবে।’