ঢাকা ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যা: ১০ হাজার নলকূপ অকেজো, বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১০ হাজার নলকূপ এবং তিন হাজারের অধিক টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে উপজেলার অন্তত তিন লাখ মানুষ বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে ভুগছেন এবং পানিবাহিত রোগের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছেন।

উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ছনুয়া, পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, চাম্বল, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, জলদী, বৈলছড়ি, কাথালিয়া, কালীপুর, সাধনপুর, খানখানাবাদ এবং পুকুরিয়া ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার মানুষ এখন বাধ্য হয়ে খাল, বিল ও ছড়ার দূষিত পানি ব্যবহার করছেন। এর ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় ৮ হাজার ২৬টি নলকূপের মধ্যে ৪ হাজার ৫২৩টি সম্পূর্ণ এবং ৩ হাজার ৫০৩টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ২ হাজার ৪২৭টি টয়লেটও অকেজো হয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, বন্যার পানি নলকূপের মুখ তলিয়ে যাওয়ায় এবং দূষিত পানি প্রবেশ করায় অনেক নলকূপই এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। কোথাও কোথাও ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি উঠছে, যা স্বাস্থ্যকর নয়। এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারকে দূর-দূরান্ত থেকে নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য এক বিরাট ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কিছু মোটরচালিত নলকূপ থেকে সীমিত পরিসরে পানি সংগ্রহ করা গেলেও, সেগুলো পুরোপুরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বিশুদ্ধ পানির সংকট আরও তীব্র হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সঞ্জিত চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বন্যায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা থাকার কারণে প্রাথমিক জরিপে ৮ হাজারের বেশি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। জনবল সংকটের কারণে সঠিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহে কিছুটা সময় লাগছে এবং মাঠ পর্যায়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপগুলো পর্যায়ক্রমে মেরামত ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ পুনঃস্থাপন, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বন্যার্ত এলাকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে হুতিদের নৌ অবরোধের ঘোষণা: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যা: ১০ হাজার নলকূপ অকেজো, বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৩:৪২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১০ হাজার নলকূপ এবং তিন হাজারের অধিক টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে উপজেলার অন্তত তিন লাখ মানুষ বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে ভুগছেন এবং পানিবাহিত রোগের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছেন।

উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ছনুয়া, পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, চাম্বল, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, জলদী, বৈলছড়ি, কাথালিয়া, কালীপুর, সাধনপুর, খানখানাবাদ এবং পুকুরিয়া ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার মানুষ এখন বাধ্য হয়ে খাল, বিল ও ছড়ার দূষিত পানি ব্যবহার করছেন। এর ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় ৮ হাজার ২৬টি নলকূপের মধ্যে ৪ হাজার ৫২৩টি সম্পূর্ণ এবং ৩ হাজার ৫০৩টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ২ হাজার ৪২৭টি টয়লেটও অকেজো হয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, বন্যার পানি নলকূপের মুখ তলিয়ে যাওয়ায় এবং দূষিত পানি প্রবেশ করায় অনেক নলকূপই এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। কোথাও কোথাও ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি উঠছে, যা স্বাস্থ্যকর নয়। এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারকে দূর-দূরান্ত থেকে নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য এক বিরাট ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কিছু মোটরচালিত নলকূপ থেকে সীমিত পরিসরে পানি সংগ্রহ করা গেলেও, সেগুলো পুরোপুরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বিশুদ্ধ পানির সংকট আরও তীব্র হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সঞ্জিত চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বন্যায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা থাকার কারণে প্রাথমিক জরিপে ৮ হাজারের বেশি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। জনবল সংকটের কারণে সঠিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহে কিছুটা সময় লাগছে এবং মাঠ পর্যায়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপগুলো পর্যায়ক্রমে মেরামত ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ পুনঃস্থাপন, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বন্যার্ত এলাকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন।