ঢাকা ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

উজানের ঢল ও অতিবৃষ্টিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে কয়েকটি নদীর পানি

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। টানা বৃষ্টিপাত এবং উজানের পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের প্রায় ১২টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে এবং সুরমা নদীর পানি ছাতক (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, সোমেশ্বরী নদীর পানি কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) পয়েন্টেও বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেছে। নদীর পানি এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম; সুরমা-কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা অববাহিকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ; এবং সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস অববাহিকায় শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা তীব্র বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব এলাকার নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বন্যা সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়েছে যে, আগামী এক থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের আরও কিছু জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল; আত্রাই ও ছোট যমুনা অববাহিকায় নওগাঁ ও নাটোর জেলাও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। উজান থেকে আসা ভারতীয় ঢল অব্যাহত থাকলে এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনকে পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে হুতিদের নৌ অবরোধের ঘোষণা: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

উজানের ঢল ও অতিবৃষ্টিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে কয়েকটি নদীর পানি

আপডেট সময় : ০৩:৪০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। টানা বৃষ্টিপাত এবং উজানের পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের প্রায় ১২টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে এবং সুরমা নদীর পানি ছাতক (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, সোমেশ্বরী নদীর পানি কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) পয়েন্টেও বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেছে। নদীর পানি এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম; সুরমা-কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা অববাহিকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ; এবং সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস অববাহিকায় শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা তীব্র বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব এলাকার নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বন্যা সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়েছে যে, আগামী এক থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের আরও কিছু জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল; আত্রাই ও ছোট যমুনা অববাহিকায় নওগাঁ ও নাটোর জেলাও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। উজান থেকে আসা ভারতীয় ঢল অব্যাহত থাকলে এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনকে পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।