ঢাকা ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

শ্রম খাতের আধুনিকায়ন ও সংস্কার নিয়ে আইএলও মহাপরিচালকের সঙ্গে শ্রমমন্ত্রীর ফলপ্রসূ আলোচনা

বাংলাদেশ শ্রম খাতের আধুনিকায়ন, শ্রম আইন সংস্কার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবোর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সোমবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আইএলও মহাপরিচালককে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন যে, শ্রম খাতের সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এই ধারাবাহিকতায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। মন্ত্রী গর্বের সাথে জানান, এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আইএলও-র ১০টি মৌলিক কনভেনশনই অনুসমর্থন করেছে, যা বৈশ্বিক শ্রম পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর সংশোধন, একটি ত্রিপক্ষীয় ‘ন্যাশনাল সোশ্যাল ডায়ালগ ফোরাম’ গঠন এবং স্বাধীন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এছাড়াও, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় খাতের শ্রমিকদের জন্য একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলতে ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম’ জাতীয়করণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দেশে ও বিদেশে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন ‘কর্মসংস্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু করে আত্মকর্মসংস্থান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রী বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে হুতিদের নৌ অবরোধের ঘোষণা: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

শ্রম খাতের আধুনিকায়ন ও সংস্কার নিয়ে আইএলও মহাপরিচালকের সঙ্গে শ্রমমন্ত্রীর ফলপ্রসূ আলোচনা

আপডেট সময় : ০২:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ শ্রম খাতের আধুনিকায়ন, শ্রম আইন সংস্কার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবোর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সোমবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আইএলও মহাপরিচালককে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন যে, শ্রম খাতের সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এই ধারাবাহিকতায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। মন্ত্রী গর্বের সাথে জানান, এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আইএলও-র ১০টি মৌলিক কনভেনশনই অনুসমর্থন করেছে, যা বৈশ্বিক শ্রম পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর সংশোধন, একটি ত্রিপক্ষীয় ‘ন্যাশনাল সোশ্যাল ডায়ালগ ফোরাম’ গঠন এবং স্বাধীন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এছাড়াও, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় খাতের শ্রমিকদের জন্য একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলতে ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম’ জাতীয়করণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দেশে ও বিদেশে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন ‘কর্মসংস্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু করে আত্মকর্মসংস্থান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রী বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।