ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সম্প্রতি গুগলকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে যে, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে প্রতিদ্বন্দ্বী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) অ্যাপগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, প্রতিদ্বন্দ্বী সার্চ ইঞ্জিন এবং যোগ্য এআই চ্যাটবটগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু সার্চ-সংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগিরও নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইইউর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে, গুগলের নিজস্ব এআই সহকারী ‘জেমিনি’ অ্যান্ড্রয়েডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফিচারে যে ধরনের প্রবেশাধিকার পায়, প্রতিদ্বন্দ্বী এআই অ্যাপগুলো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে সমমানের সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দের ওয়েব ব্রাউজার বেছে নেওয়ার মতোই নিজেদের পছন্দের এআই সহকারী নির্বাচন করতে পারবেন। এর পাশাপাশি, নির্বাচিত এআই অ্যাপকে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে চালু করা এবং স্মার্ট ডিভাইসের বিভিন্ন ফিচার ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে গুগলকে।
এছাড়াও, প্রতিদ্বন্দ্বী সার্চ ইঞ্জিন ও নির্ধারিত যোগ্যতার এআই চ্যাটবটগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট সার্চ-সংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি করতে হবে গুগলকে। ইইউ স্পষ্ট জানিয়েছে, এসব তথ্য অবশ্যই ব্যবহারকারীর পরিচয় গোপন রেখে বা অ্যানোনিমাইজড আকারে সরবরাহ করতে হবে। তথ্য সুরক্ষার এই পুরো প্রক্রিয়া একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।
ইইউর এই নির্দেশনা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে গুগলকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সার্চ-সংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি শুরু করতে হবে। একই বছরের জুলাই মাসের মধ্যে অ্যান্ড্রয়েডের বিভিন্ন সফটওয়্যার সুবিধাও প্রতিদ্বন্দ্বী এআই অ্যাপগুলোর জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
তবে ইইউর এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রেসিডেন্ট কেন্ট ওয়াকার এক বিবৃতিতে দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের কোটি কোটি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার ভাষ্য, অ্যান্ড্রয়েডকে আরও উন্মুক্ত করতে বাধ্য করা হলে ডিভাইসের নিরাপত্তা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ বিষয়ে বিরলভাবে গুগলের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়েছে অ্যাপলও। চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, এ ধরনের বাধ্যবাধকতা ব্যবহারকারীদের ডেটা সুরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে এবং তাদের গোপনীয়তাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























