ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইরানে টানা নবম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী, যেখানে দেশটির একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে তেহরানও প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়েছে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ‘বিপর্যয়কর জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হামলার বিষয়ে নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এই অভিযানে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এই চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া একটি সমঝোতা স্মারক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করেছে। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই পদক্ষেপে তার কিছু আসে যায় না। গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে ওই স্মারক সই হয়েছিল।
তবে শুরু থেকেই সমঝোতা স্মারকের শর্ত কোনো পক্ষই মানছিল না। শর্ত অনুযায়ী হামলা বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তা হয়নি। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের ব্যবস্থাপনায় জাহাজ চলাচলের কথা ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এতে আপত্তি জানিয়ে জর্ডান উপকূল দিয়ে জাহাজ পাঠাতে চাইছে। এই বিরোধ থেকেই নতুন করে সংঘাতের সৃষ্টি। গতকালও হরমুজে জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েছে ইরানি বাহিনী। তাদের দাবি, চারটি জাহাজ ‘অনিরাপদ’ রুট ব্যবহার করছিল। সতর্ক করার পর দুটি জাহাজ পিছু হটলেও অন্য দুটি ‘দুর্ঘটনার’ শিকার হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই বক্তব্যের মধ্যেই গত শনিবার রাতে ইরানের দারখোভিন অঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল এবং তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। অন্যদিকে, ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















