ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগের নতুন একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, মানুষের সম্মতি ছাড়া পোশাকহীন বা যৌন স্পষ্ট ছবি তৈরির ‘ন্যুডিফাই’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের প্রচার এবং ব্যবহারকারী পাঠানোর বড় বাহন হিসেবে ইউটিউব ও এক্স ব্যবহৃত হচ্ছে। গত ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এসব ক্ষতিকর সাইটে প্রায় ৫৭ লাখের বেশি ভিজিট এসেছে। এর মধ্যে ইউটিউব থেকে এসেছে প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার ভিজিট, যা মোট রেফারেলের ৩০ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া এক্স থেকে এসেছে ১৩ লাখেরও বেশি ভিজিট। গবেষণায় দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্মগুলোতে এসব অ্যাপের রিভিউ, প্রচার ও ব্যবহারের জন্য প্রমোশনাল কোডসহ ভিডিও সহজেই পাওয়া যাচ্ছে, যা ইউটিউব ও এক্সের নিজস্ব নীতিমালার পরিপন্থী।
গবেষণায় বিশ্লেষক মেলানি স্মিথ জানিয়েছেন, ইউটিউব কেবল ব্যবহারকারী পাঠানোর নিষ্ক্রিয় উৎস নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এসব সরঞ্জাম ব্যবহারে সহায়তাও করছে। অথচ ইউটিউবের নীতিমালায় যৌন স্পষ্ট কনটেন্ট, এমন ওয়েবসাইটের লিংক বা বিজ্ঞাপন প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ব্যবহারকারীরা মাত্র এক ডলার খরচ করেই ডিপফেইক ছবি তৈরি করতে পারছেন, যা বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করে থাকে। গবেষণায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে যে, এসব অ্যাপের শিকার কেবল বর্তমান বা সাবেক প্রেমিকারা নন, বরং বোন বা নিকটাত্মীয়রাও রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে কারো চাকরি বা ব্যক্তিগত জীবন ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেও এসব টুল ব্যবহার করা হচ্ছে।
যদিও ইউটিউব ও এক্স কর্তৃপক্ষ তাদের প্ল্যাটফর্মে অনুমতি ছাড়া যৌন কনটেন্ট এবং ডিপফেইক বা অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্টের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির দাবি করেছে, তবুও বাস্তবে এসব নীতি কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না বলে গবেষকরা মত দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডিপফেইকবিরোধী আইন এবং ‘টেইক ইট ডাউন’ আইনের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এসব অ্যাপের বিস্তার থামছে না; বরং সেগুলো আরও সহজলভ্য হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহার প্রতিরোধে গবেষকরা প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সমন্বিত নীতিমালা এবং স্কুল পর্যায়ে ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























