ইসরাইলের একজন সামরিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, রাশিয়া নির্মিত এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাতার বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে বিক্রি করলেও তুরস্কের হাতে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পৌঁছানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ। সম্প্রতি ‘ইউরেশিয়ান টাইমস’-এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তুরস্কের গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে আঙ্কারা তাদের এস-৪০০ ব্যবস্থাটি তৃতীয় কোনো দেশের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করছে। এই সম্ভাব্য ক্রেতাদের তালিকায় কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এই বিষয়ে ‘বহুপাক্ষিক কাজ’ চলছে বলে নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কেনার কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচির বাইরে রাখে এবং তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আমেরিকার মূল যুক্তি ছিল, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে মার্কিন এফ-৩৫ পরিচালনা করলে এর গোপন স্টিলথ প্রযুক্তি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্প্রতি ন্যাটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপরই গুঞ্জন ওঠে যে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ-৩৫ সরবরাহ করতে পারে। কিন্তু ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট শাই গ্যাল মনে করেন, ট্রাম্প আশ্বাস দিলেও একা যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিতে পারবেন না। এর জন্য মার্কিন কংগ্রেস, পেন্টাগন এবং গোয়েন্দা সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন। তাছাড়া এফ-৩৫ হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদী, যা ট্রাম্পের মেয়াদকালের মধ্যে শেষ হওয়া সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এস-৪০০ সরিয়ে নিলেই তুরস্কের ওপর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি ও কৌশলগত অনাস্থা দূর হবে না। এস-৪০০ পরিচালনায় রুশ বিশেষজ্ঞরা জড়িত থাকায় ২০১৯ সাল পর্যন্ত এফ-৩৫ সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য রাশিয়ার কাছে ফাঁস হওয়ার স্থায়ী ঝুঁকি রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন। এছাড়া, কাতার তুরস্কের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ‘আল উদেইদ’ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কাতারে এই রুশ ব্যবস্থা স্থানান্তর করা হলে মার্কিন কংগ্রেস এটিকে ‘কৌশলগত জালিয়াতি’ হিসেবে দেখতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























