ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা সংকট: চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ

রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবার ক্ষোভে রূপ নিয়েছে। ক্যাম্পাসে একের পর এক চুরির ঘটনা, বিশেষ করে বাইসাইকেল চুরি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীর অভাব এবং নজরদারির ঘাটতির কারণেই চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চুরিসংক্রান্ত অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে জমা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আশিকের একটি বাইসাইকেল ক্যাম্পাস থেকে চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে চোরের চেহারা শনাক্ত করা সম্ভব হলেও এখন পর্যন্ত সাইকেল উদ্ধার বা জড়িত ব্যক্তিকে আটক করা যায়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আশিক জানান, এ ঘটনার পর তিনি প্রক্টর অফিসে যোগাযোগ করেছেন। তবে সেখান থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা বা সমাধানের কোনো আশ্বাস তিনি পাননি। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনের কাছে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা ক্যাম্পাস থেকে একটু দূরে থাকি, আমাদের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা বাইসাইকেল। সেটিও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে আমরা কোথায় যাব?’

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কয়েক দিন আগেও একই ব্যাচের আরও দুই শিক্ষার্থীর বাইসাইকেল ক্যাম্পাস থেকেই চুরি হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বাইসাইকেল, মোবাইল ফোন, ব্যাগসহ ব্যক্তিগত মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। তবে অধিকাংশ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও কার্যকর ফল পাননি বলে দাবি তাদের।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটনা চলে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থায়ী কোনো সমাধান করতে পারেনি। চুরি ঠেকাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি কিংবা অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা। প্রক্টর অফিস শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না বলেও তাদের অভিযোগ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে উত্তরা থেকেই হবে প্রথম প্রতিরোধ: নাহিদ ইসলাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা সংকট: চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবার ক্ষোভে রূপ নিয়েছে। ক্যাম্পাসে একের পর এক চুরির ঘটনা, বিশেষ করে বাইসাইকেল চুরি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীর অভাব এবং নজরদারির ঘাটতির কারণেই চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চুরিসংক্রান্ত অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে জমা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আশিকের একটি বাইসাইকেল ক্যাম্পাস থেকে চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে চোরের চেহারা শনাক্ত করা সম্ভব হলেও এখন পর্যন্ত সাইকেল উদ্ধার বা জড়িত ব্যক্তিকে আটক করা যায়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আশিক জানান, এ ঘটনার পর তিনি প্রক্টর অফিসে যোগাযোগ করেছেন। তবে সেখান থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা বা সমাধানের কোনো আশ্বাস তিনি পাননি। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনের কাছে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা ক্যাম্পাস থেকে একটু দূরে থাকি, আমাদের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা বাইসাইকেল। সেটিও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে আমরা কোথায় যাব?’

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কয়েক দিন আগেও একই ব্যাচের আরও দুই শিক্ষার্থীর বাইসাইকেল ক্যাম্পাস থেকেই চুরি হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বাইসাইকেল, মোবাইল ফোন, ব্যাগসহ ব্যক্তিগত মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। তবে অধিকাংশ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও কার্যকর ফল পাননি বলে দাবি তাদের।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটনা চলে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থায়ী কোনো সমাধান করতে পারেনি। চুরি ঠেকাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি কিংবা অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা। প্রক্টর অফিস শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না বলেও তাদের অভিযোগ।