রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ মো. রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বরাবরে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অধ্যক্ষ তার আপন বড় ভাই, একজন প্রভাষক ও একজন জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টরকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে কলেজে দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজটিতে সেনাবাহিনী কর্তৃক সরবরাহকৃত ৪০টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ও মাদারবোর্ড সরিয়ে ফেলা এবং ওয়াটারপ্রুফ রাউটার নষ্ট দেখিয়ে নিম্নমানের রাউটার লাগানোর মাধ্যমে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
এছাড়া, পানির পাম্প মেরামতসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ল্যাবের কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ্যাপারেল বিভাগের প্রায় দুই লক্ষ টাকা মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ‘রেজার’ ল্যাপটপের হদিস তিন মাস ধরে না থাকলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বিধি লঙ্ঘন করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে পদোন্নতি দিয়ে প্রশাসনিক পদে বসানো, অভিজ্ঞ শিক্ষকদের হয়রানি ও বদলি করা এবং নিজের অনুগত অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে কলেজ পরিচালনার মাধ্যমে তিনি শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন বলেও অভিযোগকারীদের দাবি। এর অনুলিপি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, বস্ত্র অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মো. রঞ্জু মিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তারাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ তুলেছে। কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ ও রাউটারের বিষয়ে তিনি বলেন, কাজের সুবিধার জন্যই তিনি সেগুলো পরিবর্তন করেছেন বা স্থাপন করেছেন। নিজের ভাইকে নিয়ে নিয়োগের বিষয়ে তিনি জানান, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসের খাতিরেই তিনি তাকে কাজ করতে দিয়েছেন। তবে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, অধ্যক্ষের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের পথে। তারা অনতিবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 























