ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

দুই হাত না নিয়েও পায়ে লিখে মাস্টার্স, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাকরি চাইলেন নীলা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের চরবরধুল গ্রামের অদম্য নীলা খাতুন, জন্মগতভাবে দুটি হাত ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছেন। কিন্তু শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই তিনি পায়ের সাহায্যে লেখা, খাওয়া, পোশাক পরা এবং দৈনন্দিন সব কাজ নিজেই করে আসছেন। এমনকি পরিবারের কাজেও তিনি নিয়মিত সহযোগিতা করেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেধা থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনো একটি চাকরির অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

শিক্ষাজীবনে নীলা চরবরধুল দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল, কামারখন্দ ফাজিল মাদরাসা থেকে আলিম ও ফাজিল এবং সিরাজগঞ্জের আহমেদিয়া কামিল মাদরাসা থেকে কামিল/মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, ইচ্ছাশক্তিই মানুষকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় দুবার অংশ নিলেও, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এখনো চাকরির সুযোগ পাননি। তবুও তিনি হতাশ নন।

নীলা খাতুন বলেন, ‘আমি কখনো আমার প্রতিবন্ধকতাকে দুর্বলতা মনে করিনি। পড়াশোনা করেছি, নিজের কাজ নিজেই করি। আমি শুধু চাই, আমার যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হোক এবং কাজ করার একটি সুযোগ চাই। তাই আমি আমার পরিবারকে নিয়ে ভালো থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সরকারি একটি চাকরি চাই।’

সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিশেষ কর্মকর্তা ও সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আল কায়েস জানিয়েছেন, নীলা খাতুনের যোগ্যতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করার জন্য চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও বলেন, নীলা খাতুনের মতো একজন সংগ্রামী ও মেধাবী নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে তা সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন নলছিটি পৌর শহর, ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি

দুই হাত না নিয়েও পায়ে লিখে মাস্টার্স, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাকরি চাইলেন নীলা

আপডেট সময় : ১১:০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের চরবরধুল গ্রামের অদম্য নীলা খাতুন, জন্মগতভাবে দুটি হাত ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছেন। কিন্তু শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই তিনি পায়ের সাহায্যে লেখা, খাওয়া, পোশাক পরা এবং দৈনন্দিন সব কাজ নিজেই করে আসছেন। এমনকি পরিবারের কাজেও তিনি নিয়মিত সহযোগিতা করেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেধা থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনো একটি চাকরির অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

শিক্ষাজীবনে নীলা চরবরধুল দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল, কামারখন্দ ফাজিল মাদরাসা থেকে আলিম ও ফাজিল এবং সিরাজগঞ্জের আহমেদিয়া কামিল মাদরাসা থেকে কামিল/মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, ইচ্ছাশক্তিই মানুষকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় দুবার অংশ নিলেও, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এখনো চাকরির সুযোগ পাননি। তবুও তিনি হতাশ নন।

নীলা খাতুন বলেন, ‘আমি কখনো আমার প্রতিবন্ধকতাকে দুর্বলতা মনে করিনি। পড়াশোনা করেছি, নিজের কাজ নিজেই করি। আমি শুধু চাই, আমার যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হোক এবং কাজ করার একটি সুযোগ চাই। তাই আমি আমার পরিবারকে নিয়ে ভালো থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সরকারি একটি চাকরি চাই।’

সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিশেষ কর্মকর্তা ও সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আল কায়েস জানিয়েছেন, নীলা খাতুনের যোগ্যতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করার জন্য চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও বলেন, নীলা খাতুনের মতো একজন সংগ্রামী ও মেধাবী নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে তা সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।