ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

শান্তি পরিকল্পনার সংশোধনকে স্বাগত জানালেন জেলেনস্কি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বিতর্কিত ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনার সংশোধিত সংস্করণকে স্বাগত জানিয়েছেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে জেলেনস্কি বলেন, সংশোধিত পরিকল্পনাটি বাস্তবেই সঠিক দিকনির্দেশনা। পরিকল্পনার কয়েকটি অংশ রাশিয়ার উদ্দেশ্য সমর্থন করে— এমন মনে হওয়ায়, ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা সেগুলো বাতিল করে পরিকল্পনার একটি সংশোধিত সংস্করণ তৈরি করেছে। এরপরই এমন মন্তব্য করলেন জেলেনস্কি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

জেলেনস্কি আরও বলেন, “সংবেদনশীল ইস্যুগুলো, সবচেয়ে সূক্ষ্ম বিষয়গুলো, আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করবো।” তবে তিনি কখন সেই আলোচনা হবে, তা জানাননি।

টেলিগ্রামে জেলেনস্কি লিখেছেন, “এখন যুদ্ধ শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোর তালিকা বাস্তবসম্মত হয়ে উঠতে পারে… এই কাঠামোতে বহু সঠিক উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

তার এই বার্তার কিছুক্ষণ পর, মঙ্গলবার ভোরে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, রাশিয়ার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় রাজধানীর একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে, দেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় ‘বড় ও সমন্বিত শত্রু হামলা’ চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলে জ্বালানি কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন ও মেরামতকাজ শুরু করবেন।’

গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা যে পরিকল্পনা খসড়া করেছিলেন, তা নিয়ে আলোচনা করতে গত রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। এ পরিকল্পনা কিয়েভ ও এর ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

সুইজারল্যান্ডের বৈঠকে রুশ প্রতিনিধিরা অংশ নেননি। সোমবার এক ক্রেমলিন কর্মকর্তা সংশোধিত সংস্করণকে ‘সম্পূর্ণরূপে অগঠনমূলক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়াকে কোনোভাবেই সুবিধা দিচ্ছে না।

তিনি প্রতিবেদকদের বলেন, “এই যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের সাথে সমানভাবে সম্পৃক্ত নয়— এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।”

লেভিট আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী যে এই যুদ্ধের অবসানে কোনও সমাধান বেরিয়ে আসবে।

জেনেভা বৈঠক শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘ভালো কিছু ঘটতে পারে।’ তবে তিনি এও বলেন, ‘না দেখা পর্যন্ত বিশ্বাস করবেন না।’

এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইউক্রেনের হাতে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময় আছে এ সমাধান মেনে নেওয়ার জন্য। না হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাতে পারে। তার এ মন্তব্যে গত শুক্রবার ইউরোপজুড়ে এক ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করে এবং দ্রুতই ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে জেনেভায় বৈঠক ডাকা হয়।

পরে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি পাল্টা খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে। জানা গেছে, এ প্রস্তাবে ইউক্রেনে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোর কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, বরং ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর অনুমোদিত আকার বাড়ানো হয়েছে এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় বন্দুক হামলা, গুলিতে ১ জনের মৃত্যু

শান্তি পরিকল্পনার সংশোধনকে স্বাগত জানালেন জেলেনস্কি

আপডেট সময় : ০১:০০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বিতর্কিত ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনার সংশোধিত সংস্করণকে স্বাগত জানিয়েছেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে জেলেনস্কি বলেন, সংশোধিত পরিকল্পনাটি বাস্তবেই সঠিক দিকনির্দেশনা। পরিকল্পনার কয়েকটি অংশ রাশিয়ার উদ্দেশ্য সমর্থন করে— এমন মনে হওয়ায়, ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা সেগুলো বাতিল করে পরিকল্পনার একটি সংশোধিত সংস্করণ তৈরি করেছে। এরপরই এমন মন্তব্য করলেন জেলেনস্কি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

জেলেনস্কি আরও বলেন, “সংবেদনশীল ইস্যুগুলো, সবচেয়ে সূক্ষ্ম বিষয়গুলো, আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করবো।” তবে তিনি কখন সেই আলোচনা হবে, তা জানাননি।

টেলিগ্রামে জেলেনস্কি লিখেছেন, “এখন যুদ্ধ শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোর তালিকা বাস্তবসম্মত হয়ে উঠতে পারে… এই কাঠামোতে বহু সঠিক উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

তার এই বার্তার কিছুক্ষণ পর, মঙ্গলবার ভোরে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, রাশিয়ার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় রাজধানীর একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে, দেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় ‘বড় ও সমন্বিত শত্রু হামলা’ চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলে জ্বালানি কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন ও মেরামতকাজ শুরু করবেন।’

গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা যে পরিকল্পনা খসড়া করেছিলেন, তা নিয়ে আলোচনা করতে গত রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। এ পরিকল্পনা কিয়েভ ও এর ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

সুইজারল্যান্ডের বৈঠকে রুশ প্রতিনিধিরা অংশ নেননি। সোমবার এক ক্রেমলিন কর্মকর্তা সংশোধিত সংস্করণকে ‘সম্পূর্ণরূপে অগঠনমূলক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়াকে কোনোভাবেই সুবিধা দিচ্ছে না।

তিনি প্রতিবেদকদের বলেন, “এই যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের সাথে সমানভাবে সম্পৃক্ত নয়— এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।”

লেভিট আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী যে এই যুদ্ধের অবসানে কোনও সমাধান বেরিয়ে আসবে।

জেনেভা বৈঠক শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘ভালো কিছু ঘটতে পারে।’ তবে তিনি এও বলেন, ‘না দেখা পর্যন্ত বিশ্বাস করবেন না।’

এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইউক্রেনের হাতে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময় আছে এ সমাধান মেনে নেওয়ার জন্য। না হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাতে পারে। তার এ মন্তব্যে গত শুক্রবার ইউরোপজুড়ে এক ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করে এবং দ্রুতই ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে জেনেভায় বৈঠক ডাকা হয়।

পরে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি পাল্টা খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে। জানা গেছে, এ প্রস্তাবে ইউক্রেনে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোর কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, বরং ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর অনুমোদিত আকার বাড়ানো হয়েছে এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে।