ঢাকা ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় মাস্টার প্ল্যানের খসড়া প্রকাশ: পর্যটক সীমিত করার প্রস্তাব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি মাস্টার প্ল্যানের খসড়া প্রকাশ করেছে। এই খসড়াতে বছরে ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ জন পর্যটককে প্রতিদিন দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সোমবার (২৪ নভেম্বর) খসড়াটি প্রকাশ করেছে এবং আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে env2@moefcc.gov.bd ই-মেইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর, সংস্থা ও জনসাধারণের কাছ থেকে লিখিত মতামত চেয়েছে।

মাস্টার প্ল্যানের প্রয়োজনীয়তা

সেন্টমার্টিন দ্বীপটি প্রবাল, সামুদ্রিক কচ্ছপ, ২৬৯ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৬৬ প্রজাতির প্রবালের জন্য একটি অনন্য প্রতিবেশগত হটস্পট। তবে গত দুই দশকে অতিরিক্ত এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটক আগমনের কারণে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রতিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। পিক সিজনে প্রতিদিন ৩ থেকে ৭ হাজার পর্যটকের আগমন দ্বীপের সীমিত ধারণক্ষমতাকে সম্পূর্ণ ছাড়িয়ে গেছে, যার ফলে বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সংকট এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো (২০০৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে) দ্বীপের পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে।

পরিকল্পনার মূল দিক

পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এই মাস্টার প্ল্যানটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো আগামী ১০ বছরে দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা ও একই সাথে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।

  • পর্যটন নিয়ন্ত্রণ: পরিবেশের ক্ষতি কমাতে, প্রতিদিন পর্যটকের সংখ্যা ৫০০ থেকে ৯০০ জনের মধ্যে সীমিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • নির্দিষ্ট পর্যটন এলাকা: পর্যটকদের কার্যক্রম সাধারণ ব্যবহার অঞ্চলের (General Use Zone) সৈকত সংলগ্ন ৪.১ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
  • ৯টি কৌশলগত ক্ষেত্র: প্ল্যানটি মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ২৬টি প্রোগ্রামের মাধ্যমে কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা, প্রবাল ও কচ্ছপ সংরক্ষণ, বর্জ্য ও ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয়দের জীবিকা উন্নয়ন।

বাস্তবায়ন ও মনিটরিং

মাস্টার প্ল্যানের সফল বাস্তবায়নের জন্য মোট ৫৪৭.৯ মিলিয়ন টাকার প্রয়োজন হবে, যা প্রধানত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। পরিকল্পনাটি স্বল্প (১-৩ বছর), মধ্যম (১-৫ বছর) এবং দীর্ঘ (১-১০ বছর) মেয়াদী কার্যক্রমে সাজানো হয়েছে। অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (এমআইএস) ব্যবহার করা হবে এবং সমন্বয় নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এই মাস্টার প্ল্যানটি সেন্টমার্টিন দ্বীপকে একটি আদর্শ এবং টেকসই পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পথনির্দেশনা দেবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুর দক্ষিণাঞ্চলে ‘সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের’ আত্মপ্রকাশ: মোরশেদ মানিক আহবায়ক, মিলন সদস্য সচিব

সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় মাস্টার প্ল্যানের খসড়া প্রকাশ: পর্যটক সীমিত করার প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৯:৩২:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি মাস্টার প্ল্যানের খসড়া প্রকাশ করেছে। এই খসড়াতে বছরে ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ জন পর্যটককে প্রতিদিন দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সোমবার (২৪ নভেম্বর) খসড়াটি প্রকাশ করেছে এবং আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে env2@moefcc.gov.bd ই-মেইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর, সংস্থা ও জনসাধারণের কাছ থেকে লিখিত মতামত চেয়েছে।

মাস্টার প্ল্যানের প্রয়োজনীয়তা

সেন্টমার্টিন দ্বীপটি প্রবাল, সামুদ্রিক কচ্ছপ, ২৬৯ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৬৬ প্রজাতির প্রবালের জন্য একটি অনন্য প্রতিবেশগত হটস্পট। তবে গত দুই দশকে অতিরিক্ত এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটক আগমনের কারণে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রতিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। পিক সিজনে প্রতিদিন ৩ থেকে ৭ হাজার পর্যটকের আগমন দ্বীপের সীমিত ধারণক্ষমতাকে সম্পূর্ণ ছাড়িয়ে গেছে, যার ফলে বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সংকট এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো (২০০৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে) দ্বীপের পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে।

পরিকল্পনার মূল দিক

পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এই মাস্টার প্ল্যানটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো আগামী ১০ বছরে দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা ও একই সাথে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।

  • পর্যটন নিয়ন্ত্রণ: পরিবেশের ক্ষতি কমাতে, প্রতিদিন পর্যটকের সংখ্যা ৫০০ থেকে ৯০০ জনের মধ্যে সীমিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • নির্দিষ্ট পর্যটন এলাকা: পর্যটকদের কার্যক্রম সাধারণ ব্যবহার অঞ্চলের (General Use Zone) সৈকত সংলগ্ন ৪.১ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
  • ৯টি কৌশলগত ক্ষেত্র: প্ল্যানটি মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ২৬টি প্রোগ্রামের মাধ্যমে কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা, প্রবাল ও কচ্ছপ সংরক্ষণ, বর্জ্য ও ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয়দের জীবিকা উন্নয়ন।

বাস্তবায়ন ও মনিটরিং

মাস্টার প্ল্যানের সফল বাস্তবায়নের জন্য মোট ৫৪৭.৯ মিলিয়ন টাকার প্রয়োজন হবে, যা প্রধানত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। পরিকল্পনাটি স্বল্প (১-৩ বছর), মধ্যম (১-৫ বছর) এবং দীর্ঘ (১-১০ বছর) মেয়াদী কার্যক্রমে সাজানো হয়েছে। অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (এমআইএস) ব্যবহার করা হবে এবং সমন্বয় নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এই মাস্টার প্ল্যানটি সেন্টমার্টিন দ্বীপকে একটি আদর্শ এবং টেকসই পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পথনির্দেশনা দেবে।