কুমিল্লাকে বিভাগ করার প্রাণের দাবি পূরণে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বক্তারা ঘোষণা করেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিভাগ ঘোষণা করা না হলে কুমিল্লার জনগণকে সাথে নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হবে। শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ের পূবালী চত্বরে কুমিল্লা জেলা কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সমাবেশে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাসোসিয়েশন কুমিল্লার সভাপতি টিপু চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা যুক্তি দেন যে, কুমিল্লাকে বিভাগ করা এখন সময়ের দাবি। তাঁরা উল্লেখ করেন, রেল ও সড়ক যোগাযোগের দিক থেকে কুমিল্লার অবস্থান অত্যন্ত সুবিধাজনক, এবং প্রয়োজন হলে বিমানবন্দর চালু করে আকাশপথেও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব। বক্তাদের দাবি, প্রস্তাবিত বিভাগীয় জেলার মধ্যে কুমিল্লাই সেরা অবস্থানে আছে, তাই অবিলম্বে একে বিভাগ ঘোষণা করতে হবে। তাঁরা আরও বলেন যে, অন্যান্য জেলা যারা নিজেদের বিভাগ হিসেবে দাবি করছে, তারাও জানে যে তাদের দাবি পূরণ হবে না।
বিভাগের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান আমির, এবং জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
আমিন উর রশিদ ইয়াছিন সরাসরি আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, “এক সপ্তাহের মধ্যে কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা করতে হবে। তা না করা হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।”
কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, “বিভাগ আমাদের আজকের দিনের চাওয়া নয়। ফ্যাসিবাদী সরকারও এই বিভাগ নিয়ে টালবাহানা করেছে, আপনারাও করছেন। কিন্তু কুমিল্লার মানুষ আন্দোলন শুরু করলে আপনারা তা দমাতে পারবেন না।”
ইউসুফ মোল্লা টিপু কুমিল্লার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই কুমিল্লা প্রাচীন সমতট অঞ্চলের এবং ত্রিপুরার রাজধানী ছিল। এখানে ষোড়শ শতকে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, যা এখন শালবন বিহার নামে পরিচিত। এত প্রাচীন একটি জেলাকে বিভাগ ঘোষণা করা এখানকার জনগণের প্রাণের দাবি। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জেলার সতেরোটি উপজেলা থেকে কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে পূবালী চত্বর উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বৃষ্টি উপেক্ষা করেও জনতা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
রিপোর্টারের নাম 



















