‘তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হয়েছে। বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে কর্মক্ষম বয়সের একটি বড় অংশ থাকা সত্ত্বেও, এই ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী একটি বড় সম্ভাবনা। তবে সঠিক শিক্ষা, কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব এই জনমিতিক সুবিধা ভবিষ্যতে জনমিতিক চাপে পরিণত হতে পারে। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও, সেই অনুপাতে মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় শিক্ষিত বেকারত্ব এবং দক্ষতার ঘাটতি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
স্বাধীনতার পর পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যার অত্যধিক চাপ আবাসন সংকট, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক চাহিদাগুলোকে হুমকির মুখে ফেলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় এলাকা থেকে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন এই চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘পরিবার পরিকল্পনার সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতায় বিনিয়োগ করতে হবে। পরিকল্পিত জনসংখ্যাই পারে টেকসই, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তুলতে।’
রিপোর্টারের নাম 



















