ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের রাউজানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত: হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি, বিশুদ্ধ পানির অভাব

চট্টগ্রামের রাউজানে টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কসহ অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। অসংখ্য বসতঘর, দোকানপাট এবং বিভিন্ন স্থাপনা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় খাল ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন।

বিশেষ করে রাউজান পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড, চিকদাইর, ডাবুয়া, কদলপুর, পাহাড়তলী ও উরকিরচর ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় চালক ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চৌমুহনী কাঁচাবাজারও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় দক্ষিণ দাশপাড়ার বসতঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে, যা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে পানিবন্দী সড়ক মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়ক ডুবে গেছে এবং বসতঘরে কোমর সমান পানি জমেছে। অনেক এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং কৃষকের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, ডাবুয়া খাল ভেঙে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী অবস্থায় তারা চুলা জ্বালাতে পারছেন না এবং অনেক কষ্টে রাত কাটাচ্ছেন।

রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক আলী সুমন জানান, তার এলাকায় বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মানুষকে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করছেন। রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম জানিয়েছেন, খাল ভাঙার খবর পেয়ে ঠিকাদারকে বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পৌর এলাকার বিষয়টি পৌর প্রশাসক পর্যবেক্ষণ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুলিয়ারচরে দুর্বৃত্তের হামলায় এক যুবক নিহত, এলাকায় উত্তেজনা

টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের রাউজানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত: হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি, বিশুদ্ধ পানির অভাব

আপডেট সময় : ১১:০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজানে টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কসহ অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। অসংখ্য বসতঘর, দোকানপাট এবং বিভিন্ন স্থাপনা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় খাল ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন।

বিশেষ করে রাউজান পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড, চিকদাইর, ডাবুয়া, কদলপুর, পাহাড়তলী ও উরকিরচর ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় চালক ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চৌমুহনী কাঁচাবাজারও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় দক্ষিণ দাশপাড়ার বসতঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে, যা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে পানিবন্দী সড়ক মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়ক ডুবে গেছে এবং বসতঘরে কোমর সমান পানি জমেছে। অনেক এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং কৃষকের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, ডাবুয়া খাল ভেঙে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী অবস্থায় তারা চুলা জ্বালাতে পারছেন না এবং অনেক কষ্টে রাত কাটাচ্ছেন।

রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক আলী সুমন জানান, তার এলাকায় বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মানুষকে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করছেন। রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম জানিয়েছেন, খাল ভাঙার খবর পেয়ে ঠিকাদারকে বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পৌর এলাকার বিষয়টি পৌর প্রশাসক পর্যবেক্ষণ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।