ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার ঘোষণা মাওলানা মামুনুল হকের

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নতুন ভবন নির্মাণ ও ব্যবসা পরিচালনায় সাধারণ মানুষকে চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি দিতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত কর ছাড়া চাঁদাবাজদের কোনো অর্থ না দিতে।

শুক্রবার বাদ জুমা মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড়ে ‘মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে’ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা-১৩ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক আরও বলেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকা থেকে চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, দখলদারিত্ব, মাদক এবং মদের বার উচ্ছেদে সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে এ এলাকাকে একটি নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত ও শান্তিময় আদর্শ নগরীতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে আমিরে মজলিস বলেন, দরিদ্র, এতিম ও পিতাহারা কিশোরদের অপরাধচক্র বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছে। এসব কিশোরকে অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে সমাজের সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাদককে সব ধরনের অপরাধের মূল কারণ উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পসহ যেসব এলাকায় মাদক কারবার বিস্তার লাভ করেছে, সেখানে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। একইসাথে লালমাটিয়া এলাকায় মদের বার পরিচালনার সমালোচনা করে তিনি প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান, অন্যথায় স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি দেন।

শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মামুনুল হক অভিযোগ করেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ধর্মীয় মূল্যবোধকে দুর্বল করার প্রবণতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেবল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দর্জিকে কুপিয়ে হত্যা, জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান

মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার ঘোষণা মাওলানা মামুনুল হকের

আপডেট সময় : ১০:২৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নতুন ভবন নির্মাণ ও ব্যবসা পরিচালনায় সাধারণ মানুষকে চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি দিতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত কর ছাড়া চাঁদাবাজদের কোনো অর্থ না দিতে।

শুক্রবার বাদ জুমা মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড়ে ‘মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে’ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা-১৩ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক আরও বলেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকা থেকে চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, দখলদারিত্ব, মাদক এবং মদের বার উচ্ছেদে সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে এ এলাকাকে একটি নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত ও শান্তিময় আদর্শ নগরীতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে আমিরে মজলিস বলেন, দরিদ্র, এতিম ও পিতাহারা কিশোরদের অপরাধচক্র বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছে। এসব কিশোরকে অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে সমাজের সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাদককে সব ধরনের অপরাধের মূল কারণ উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পসহ যেসব এলাকায় মাদক কারবার বিস্তার লাভ করেছে, সেখানে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। একইসাথে লালমাটিয়া এলাকায় মদের বার পরিচালনার সমালোচনা করে তিনি প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান, অন্যথায় স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি দেন।

শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মামুনুল হক অভিযোগ করেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ধর্মীয় মূল্যবোধকে দুর্বল করার প্রবণতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেবল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন।