ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পানিবন্দিদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর ১০ স্পিডবোট, মোতায়েনের খবর অসত্য

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০টি স্পিডবোট মোতায়েন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকাল থেকে চালক ও সহকারীসহ এসব স্পিডবোট উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেবে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাতকানিয়ায় সেনাবাহিনী পুরোপুরি মোতায়েন করা হয়েছে—এমন তথ্য সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক।

শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এখনো অনেক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর কাছে ১০টি স্পিডবোট চাওয়া হয়। এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার থেকে সেনাবাহিনী চালক ও সহকারীসহ ১০টি স্পিডবোট সরবরাহ করবে। এসব স্পিডবোট উদ্ধার অভিযান, জরুরি খাদ্য সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হবে।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে সাতকানিয়ায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের যে খবর ছড়িয়েছে, সেটি সঠিক নয়। সেনাবাহিনী সদস্যদের বড় ধরনের মোতায়েন করা হচ্ছে না, বরং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ১০টি স্পিডবোট দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি স্পিডবোট চালক ও প্রয়োজনীয় সহকারীসহ পরিচালিত হবে, যাতে দ্রুত দুর্গম এলাকায় পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার এখনো ঘরবন্দি ও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। কিছু এলাকায় কোমর থেকে বুকসমান পানি থাকায় নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোনো সুযোগ নেই। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে।

বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী বিতরণেও স্পিডবোটগুলো ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দর্জিকে কুপিয়ে হত্যা, জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পানিবন্দিদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর ১০ স্পিডবোট, মোতায়েনের খবর অসত্য

আপডেট সময় : ১০:২২:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০টি স্পিডবোট মোতায়েন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকাল থেকে চালক ও সহকারীসহ এসব স্পিডবোট উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেবে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাতকানিয়ায় সেনাবাহিনী পুরোপুরি মোতায়েন করা হয়েছে—এমন তথ্য সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক।

শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এখনো অনেক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর কাছে ১০টি স্পিডবোট চাওয়া হয়। এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার থেকে সেনাবাহিনী চালক ও সহকারীসহ ১০টি স্পিডবোট সরবরাহ করবে। এসব স্পিডবোট উদ্ধার অভিযান, জরুরি খাদ্য সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হবে।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে সাতকানিয়ায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের যে খবর ছড়িয়েছে, সেটি সঠিক নয়। সেনাবাহিনী সদস্যদের বড় ধরনের মোতায়েন করা হচ্ছে না, বরং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ১০টি স্পিডবোট দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি স্পিডবোট চালক ও প্রয়োজনীয় সহকারীসহ পরিচালিত হবে, যাতে দ্রুত দুর্গম এলাকায় পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার এখনো ঘরবন্দি ও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। কিছু এলাকায় কোমর থেকে বুকসমান পানি থাকায় নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোনো সুযোগ নেই। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে।

বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী বিতরণেও স্পিডবোটগুলো ভূমিকা রাখবে।