দিল্লিতে দীর্ঘ ২০-২১ বছর ধরে বসবাস ও কাজ করা কিছু বাংলাদেশি নাগরিককে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করে জোরপূর্বক সীমান্তে পুশ-ইন করার এক মর্মস্পর্শী ঘটনা সামনে এসেছে। সোনালী খাতুন, সুইটি বিবি এবং দানেশ শেখের পরিবারকে দিল্লি পুলিশ আটক করে এবং তাদের জীবনের এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দিল্লির রোহিনী পল্লিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত। গত বছরের ২৪ জুন দানেশ শেখ ও সুইটি বিবিদের পরিবারকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে দিল্লি পুলিশ। আটকের সময় তাদের সব প্রয়োজনীয় নথি, এমনকি অন্তঃসত্ত্বা সোনালীর ডাক্তারি কাগজপত্র ও মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। কথা না শুনলে সোনালীকে আলাদা করে পাচার করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
দানেশ শেখ জানান, পুলিশ তাদের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু কোরবানির ঈদ শেষে সদ্য গ্রাম থেকে ফেরার কারণে তাদের কাছে মাত্র ২৫-৩০ হাজার টাকা ছিল। পুলিশ দানেশের কর্মস্থলের ম্যানেজার বা এলাকার সাফাইকর্মীদের কোনো অনুরোধই শোনেনি। আম্বেদকর মেডিক্যাল হাসপাতালে মেডিক্যাল টেস্টের পর আদালতে তাদের হাজির করে পুলিশ মিথ্যা তথ্য জমা দিয়ে জানায় যে, তারা বাংলাদেশি এবং কোনো কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি।
২৬ জুন তাদেরসহ মোট ৭০ জনকে বিমানবন্দর থেকে আসামের ধুবড়ির কাছে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ক্যাম্পে বাংলাদেশিদের হাতে বাংলাদেশি মুদ্রা দেওয়া হয়। দানেশ শেখদের সঙ্গে থাকা দুজন বাংলাদেশি ছিল, যাদের একজন একটি পোস্টের কাছে নেমে যায়। অপর একজন দালাল-গোছের লোক গাড়ি থেকে তাদের মাঝপথে নামিয়ে দেয়।
দানেশ শেখ বলেন, তখন রাত বারোটা বা একটা হবে, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছিল। সেখানে বিএসএফের একজন তাদের ছয়জনকে নির্দেশ দেন, ‘সামনে ফাঁকা জায়গা দিয়ে দৌড়ে সরাসরি চলে যাবি। পিছনে তাকালে গুলি করে দেব।’ ছেলে-বউ নিয়ে তারা বিএসএফ সদস্যদের হাতে-পায়ে ধরে কাঁদতে থাকেন, কিন্তু তারা শোনেননি। বিএসএফ সদস্যরা তাদের বলেন, ‘সামনের জঙ্গলে বাঘমারা আসে, ওরা জানতে পারলে বিপদে পড়বি, কাঁদিস না।’ এই ঘটনা গোটা ভারত ও বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে, যা পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তে শরণার্থীদের পুশব্যাকের মতো ঘটনার চেয়ে কোনো অংশে কম হৃদয়বিদারক নয়।
রিপোর্টারের নাম 




















