ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি বাতিল: ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংকট গভীর হচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যত ‘সমাপ্ত’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার তাঁর এই আকস্মিক ঘোষণার পর মার্কিন রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সামনেই কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এমন সময়ে একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর রিপাবলিকানরা আশা করেছিল, যুদ্ধ বন্ধ হলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তারা ভালো ফল করবে। এর আগে জ্বালানির চড়া দাম নিয়ে দলের নেতারা হোয়াইট হাউসকে সতর্কও করেছিলেন। এখন যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। একদিকে মার্কিন ভোটারদের বড় অংশই এই যুদ্ধের বিরোধী, অন্যদিকে দলীয় প্রার্থীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেদের পুরোপুরি দূরেও সরিয়ে নিতে পারছেন না। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে গেছে এবং ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে।

রিপাবলিকানপন্থী নির্বাচনী সংগঠন ‘মেইন স্ট্রিট পার্টনারশিপ’-এর প্রধান সারা চেম্বারলিন বলেন, ‘ভোক্তাদের কাছে এখন প্রধান বিষয় হলো জীবনযাত্রার ব্যয়। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের এই মৌসুমে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম আবার বাড়লে তা রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। এখন প্রার্থীদের চেষ্টা করতে হবে এই পরিস্থিতির পুরো দায় ইরানের ওপর চাপানোর।’

বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইরান সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকায় অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই অসন্তুষ্ট। গত জুন মাসে পরিচালিত এক জরিপে ৫৮ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এছাড়া ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতাই ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত এড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। যুদ্ধবিরতি বাতিলের পর থেকে অধিকাংশ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তবে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে টমাস ম্যাসির মতো কোনো কোনো নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা এই ঘটনাকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার আহ্বান জাতীয় নাগরিক পার্টির

মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি বাতিল: ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংকট গভীর হচ্ছে?

আপডেট সময় : ০৮:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যত ‘সমাপ্ত’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার তাঁর এই আকস্মিক ঘোষণার পর মার্কিন রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সামনেই কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এমন সময়ে একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর রিপাবলিকানরা আশা করেছিল, যুদ্ধ বন্ধ হলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তারা ভালো ফল করবে। এর আগে জ্বালানির চড়া দাম নিয়ে দলের নেতারা হোয়াইট হাউসকে সতর্কও করেছিলেন। এখন যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। একদিকে মার্কিন ভোটারদের বড় অংশই এই যুদ্ধের বিরোধী, অন্যদিকে দলীয় প্রার্থীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেদের পুরোপুরি দূরেও সরিয়ে নিতে পারছেন না। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে গেছে এবং ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে।

রিপাবলিকানপন্থী নির্বাচনী সংগঠন ‘মেইন স্ট্রিট পার্টনারশিপ’-এর প্রধান সারা চেম্বারলিন বলেন, ‘ভোক্তাদের কাছে এখন প্রধান বিষয় হলো জীবনযাত্রার ব্যয়। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের এই মৌসুমে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম আবার বাড়লে তা রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। এখন প্রার্থীদের চেষ্টা করতে হবে এই পরিস্থিতির পুরো দায় ইরানের ওপর চাপানোর।’

বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইরান সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকায় অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই অসন্তুষ্ট। গত জুন মাসে পরিচালিত এক জরিপে ৫৮ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এছাড়া ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতাই ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত এড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। যুদ্ধবিরতি বাতিলের পর থেকে অধিকাংশ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তবে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে টমাস ম্যাসির মতো কোনো কোনো নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা এই ঘটনাকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।