মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন-বিরোধী নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে স্পট গোল্ডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে $৪,০০৭.৩৯ ডলারে, যা দিনের শুরুর দামের তুলনায় প্রায় ০.৮ শতাংশ বেশি।
বুধবার স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি $৪,০৫৯.০৫ ডলারে পৌঁছে একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছিল। এই বড় ধরনের উল্লম্ফনের ফলে সপ্তাহজুড়ে এর দাম ৩.২ শতাংশ বেড়েছে এবং এটি টানা অষ্টম সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের চীনবিরোধী কঠোর অবস্থান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এর ফলস্বরূপ, বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে স্বর্ণ ও রূপায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক হারে স্বর্ণ ক্রয়, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মার্কিন সুদহার কমানোর প্রত্যাশা এবং বাণিজ্য শুল্কের কারণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা।
শুক্রবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বলেন যে দুই সপ্তাহ পর দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কোনো কারণ তিনি দেখছেন না। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর বৃহৎ আকারের শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এই বার্তাটি প্রকাশিত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মার্কিন স্টক সূচক এক শতাংশের বেশি কমে যায়, আর স্বর্ণের দাম দ্রুত ৪ হাজার ডলারের ওপরে ফিরে আসে। বাজার বিশ্লেষক তাই ওং মন্তব্য করেন, বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তাপ বাড়লে ডলার দুর্বল হয়, আর এর ফলে স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদ আরও শক্তিশালী অবস্থানে যায়।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের সরকার পতনের সম্ভাব্য আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সরকারি অচলাবস্থা (শাটডাউন) বাজারে আরও অনিশ্চয়তা যোগ করেছে। এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ অক্টোবর ও ডিসেম্বরে দুই দফায় ২৫ বেসিস পয়েন্ট হারে সুদ কমাবে।
ক্যাপিটাল ইকনমিকসের অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন বলেন, স্বর্ণের দাম সম্প্রতি খুব দ্রুত বেড়েছে, তাই স্বল্পমেয়াদে কিছুটা মূল্য সংশোধন হতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, পরবর্তী বছরগুলোতে এর দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
স্বর্ণের পাশাপাশি রূপার দামও বেড়েছে ২.২ শতাংশ, প্রতি আউন্স $৫০.২১ ডলারে লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন এটি $৫১.২২ ডলার ছুঁয়ে একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছিল। চলতি বছরে রূপার দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৫ ডিসেম্বরের কমেক্স ফিউচার বাজারে রূপার দাম ছিল $৪৮.০৩ ডলার। অ্যালিজেন্স গোল্ডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা অ্যালেক্স এবকারিয়ান বলেছেন, রূপার বাজারে সরবরাহ কমছে, কিন্তু চাহিদা বাড়ছে। ফলে ৫০ ডলারের ওপরে এর দাম টিকে থাকাটা এখন বেশ বাস্তবসম্মত।
অন্যদিকে, প্লাটিনামের দাম বেড়েছে ০.৩ শতাংশ, প্রতি আউন্স $১,৬২২.৬১ ডলার, এবং প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে ২.৮ শতাংশ, প্রতি আউন্স $১,৪৪৫ ডলার। এই দুটি মূল্যবান ধাতুই সপ্তাহের শেষে ইতিবাচক প্রবণতা দেখিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















