ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বিদায়ী আষাঢ়ে অবিরাম বর্ষণ, আগামী দুইদিনও স্বস্তি মিলবে না

দেশের আকাশ যেন আজ অশ্রুঝরা কোনো ব্যথিত জনপদ। গত পাঁচ দিন ধরে প্রকৃতির এই অঝোর কান্না থামার নাম নেই। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ বিদায় নিলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ শুক্রবারও রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে অবিরাম বর্ষণ। এই টানা বর্ষণ জনজীবনকে যেমন স্থবির করে দিয়েছে, তেমনি রাজধানীবাসীর মনে জাগিয়েছে এক বিষণ্ণ হাহাকার।

সাঁঝের শিশির কিংবা ভোরের রোদ—সবই আজ যেন মেঘের অকাল আঁধারে ম্লান। পূর্ণিমার চাঁদ কিংবা নীলাকাশের হাতছানি নেই আজ পাঁচ দিন ধরে; শুধু ঝরেই চলেছে অবিরাম বৃষ্টিধারা। শুরুটা হয়েছিল বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা এক অস্থির নিম্নচাপের হাত ধরে। সেই নিম্নচাপ তার অভিমান মিটিয়ে অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে দিগন্তের ওপারে। কিন্তু মেঘের কান্না থামেনি। এখন তো মৌসুমি বায়ুর সেই চিরাচরিত প্রাণচাঞ্চল্য—সেই সক্রিয় বাতাসই আকাশজুড়ে গেয়ে চলেছে তার বর্ষণমুখর সুর।

সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত রাজধানীতে ১৫ মিলিমিটার, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা আর বাতাসের আর্দ্রতা যেন জানিয়ে দিচ্ছে, বৃষ্টি এখনই থামার নয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শুধু আজ নয়, ভারী বৃষ্টির এই ধারা শনিবার এমনকি রোববার পর্যন্ত গড়াতে পারে।

আবহাওয়া দপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ বজলুর রহমান জানিয়েছেন, আবহাওয়ার এই অবস্থা আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত থাকতে পারে। এরপর থেকে পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তিনি এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য বৈশ্বিক এল নিনোর প্রভাবকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, জুনে ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টি হলেও জুলাইয়ের শুরুতেই অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হচ্ছে। এবার বছরজুড়েই কমবেশি এল নিনোর প্রভাব থাকতে পারে, যা অতিবৃষ্টি ছাড়াও অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বর্ষার বৃষ্টি সাধারণত অনেক সময় ধরে থেমে থেমে কখনো স্বল্প কখনো বেশি হয়ে থাকে; কিন্তু এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে তা বর্ষাকালের মতো কোনো স্বাভাবিক বৃষ্টি নয়। অল্প সময়ে অনেক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে, যা বৈশ্বিক এল নিনোর প্রভাব বলেই আমরা মনে করছি। এই প্রবীণ আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, জুলাই মাসে একদিনে এতো বৃষ্টি গত চার দশকেও দেখা যায়নি। আমাদের কাছে থাকা রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালের ৫ জুলাই সর্বোচ্চ ৪০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে ছাত্রদলের ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা

বিদায়ী আষাঢ়ে অবিরাম বর্ষণ, আগামী দুইদিনও স্বস্তি মিলবে না

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

দেশের আকাশ যেন আজ অশ্রুঝরা কোনো ব্যথিত জনপদ। গত পাঁচ দিন ধরে প্রকৃতির এই অঝোর কান্না থামার নাম নেই। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ বিদায় নিলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ শুক্রবারও রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে অবিরাম বর্ষণ। এই টানা বর্ষণ জনজীবনকে যেমন স্থবির করে দিয়েছে, তেমনি রাজধানীবাসীর মনে জাগিয়েছে এক বিষণ্ণ হাহাকার।

সাঁঝের শিশির কিংবা ভোরের রোদ—সবই আজ যেন মেঘের অকাল আঁধারে ম্লান। পূর্ণিমার চাঁদ কিংবা নীলাকাশের হাতছানি নেই আজ পাঁচ দিন ধরে; শুধু ঝরেই চলেছে অবিরাম বৃষ্টিধারা। শুরুটা হয়েছিল বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা এক অস্থির নিম্নচাপের হাত ধরে। সেই নিম্নচাপ তার অভিমান মিটিয়ে অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে দিগন্তের ওপারে। কিন্তু মেঘের কান্না থামেনি। এখন তো মৌসুমি বায়ুর সেই চিরাচরিত প্রাণচাঞ্চল্য—সেই সক্রিয় বাতাসই আকাশজুড়ে গেয়ে চলেছে তার বর্ষণমুখর সুর।

সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত রাজধানীতে ১৫ মিলিমিটার, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা আর বাতাসের আর্দ্রতা যেন জানিয়ে দিচ্ছে, বৃষ্টি এখনই থামার নয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শুধু আজ নয়, ভারী বৃষ্টির এই ধারা শনিবার এমনকি রোববার পর্যন্ত গড়াতে পারে।

আবহাওয়া দপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ বজলুর রহমান জানিয়েছেন, আবহাওয়ার এই অবস্থা আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত থাকতে পারে। এরপর থেকে পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তিনি এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য বৈশ্বিক এল নিনোর প্রভাবকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, জুনে ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টি হলেও জুলাইয়ের শুরুতেই অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হচ্ছে। এবার বছরজুড়েই কমবেশি এল নিনোর প্রভাব থাকতে পারে, যা অতিবৃষ্টি ছাড়াও অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বর্ষার বৃষ্টি সাধারণত অনেক সময় ধরে থেমে থেমে কখনো স্বল্প কখনো বেশি হয়ে থাকে; কিন্তু এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে তা বর্ষাকালের মতো কোনো স্বাভাবিক বৃষ্টি নয়। অল্প সময়ে অনেক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে, যা বৈশ্বিক এল নিনোর প্রভাব বলেই আমরা মনে করছি। এই প্রবীণ আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, জুলাই মাসে একদিনে এতো বৃষ্টি গত চার দশকেও দেখা যায়নি। আমাদের কাছে থাকা রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালের ৫ জুলাই সর্বোচ্চ ৪০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল।