স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আলমেরিয়া প্রদেশের লস গালিয়ার্দোস এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে আন্দালুসিয়া আঞ্চলিক সরকার নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক তথ্য জানিয়েছে। নিহতদের কয়েকজনের মরদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা পরিস্থিতি ভয়াবহতা তুলে ধরে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে পড়ার পর আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত পাশের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে স্পেনসহ দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা একের পর এক দাবানল ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ। ফ্রান্স, পর্তুগাল ও স্পেনে শত শত দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নিরাপত্তার জন্য হাজারো মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আন্দালুসিয়া সরকারের প্রধান হুয়ানমা মোরেনো এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এদিকে, বেদার গ্রামের কাছে প্রায় ১৫০ জন দমকলকর্মী আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আহতদের মধ্যে একজন ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং আরেকজন দগ্ধ হয়েছেন। এছাড়া, চারজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, দাবানলের কারণে কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি সেবার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গত মে মাসে ঘোষণা দিয়েছিলেন, চলতি গ্রীষ্মে দাবানল মোকাবিলায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এদিকে, বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট (ইউএমই) লস গালিয়ার্দোসে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দিয়েছে। চলতি বছরের জুনে স্পেনে ১৯৫০ সালের পর সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর স্পেনে প্রায় ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে যায়, যা ২০০৬ থেকে ২০২৪ সালের গড়ের তুলনায় ছয় গুণেরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তনকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















