দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার জোহানেসবার্গে বিক্ষোভকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের খুঁজে বের করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এই ঘটনায় দেশটিতে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিবাসনবিরোধী এই আন্দোলন এবং বাড়ি বাড়ি তল্লাশির জেরে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। জোহানেসবার্গের আলেকজান্দ্রা এলাকায় আন্দোলনকারীরা কিছু বাড়ির দরজা ভেঙে তল্লাশি চালায় এবং যাদের আটক করে, তাদের পুলিশ ভ্যানে তুলে দেয়। আটককৃতদের মধ্যে মালাউইয়ের এক নারী ও তার ছোট সন্তানও ছিলেন।
জিম্বাবুয়ের নাগরিক টোটাল এমহলাঙ্গা, যিনি জিইপি কার্ডধারী হিসেবে বৈধভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস ও কাজ করেন, তাকেও আটক করা হয়েছিল। তিনি তার বৈধতার প্রমাণ দিয়ে মুক্তি পান। এদিকে, সোয়েটো এলাকাতেও লাঠি ও পতাকা নিয়ে মিছিল করে আরেকটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের খুঁজতে শুরু করে। উপকূলীয় শহর ডারবানেও একই ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী মনোভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। উচ্চ বেকারত্বের কারণে অনেকেই অভিবাসীদের দায়ী করছেন। এর আগে অভিবাসীবিরোধী সংগঠনগুলো ৩০ জুনের মধ্যে অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার জন্য একটি অনানুষ্ঠানিক সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল।
সাবেক রেডিও উপস্থাপক জাসিন্তা এনগোবেসে-জুমা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি বৃহস্পতিবার এই আন্দোলন চলবে। সংগঠনটির মূল দাবিগুলো হলো—সীমান্তে কঠোর নজরদারি, অবৈধ অভিবাসীদের গণহারে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং স্কুল ও হাসপাতালের মতো সরকারি সেবায় দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অবশ্য বারবার বলেছেন যে, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য অভিবাসীদের দায়ী করা ঠিক নয়। তিনি অভিবাসন আইন কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















