ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। মূল্যবান এই ধাতুটির দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে ভাবনার উদ্রেক করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪০৬৬ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর একদিন আগেই, বুধবার, স্বর্ণের দাম ১ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছিল। একই সময়ে, আগস্টে ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দামও শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে। তবে, স্বর্ণের দাম কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের গভীরতা এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার ইঙ্গিত দেয়।

স্বর্ণের বাজারে এই মূল্যহ্রাসের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক সমঝোতা স্মারক আর কার্যকর থাকবে না বলে জানান। এই ঘোষণার অল্প সময়ের মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানায়। এই ঘটনাপ্রবাহ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। বুধবার প্রায় ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পর বৃহস্পতিবারও তেলের দাম উর্ধ্বমুখী ছিল। পাশাপাশি, ডলারের বিনিময় হার এবং বিশ্ব শেয়ারবাজারেও কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রাখতে বাধ্য হতে পারে, এমনকি প্রয়োজনে আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ শতাংশে নামিয়েছে। অন্যদিকে, ব্যাংক অব আমেরিকা তাদের ২০২৬ সালের জন্য স্বর্ণের গড় মূল্য পূর্বাভাস ১৪ শতাংশ কমিয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬০ ডলার নির্ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে ফেডের সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতিকে উল্লেখ করেছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও প্রভাব পড়েছে। স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ১৩ ডলারে নেমেছে। তবে, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারের বৈচিত্র্যময় চিত্র তুলে ধরেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ও শিশুপুত্র নিহত, অপর সন্তান গুরুতর আহত

আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

আপডেট সময় : ১১:৩৯:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। মূল্যবান এই ধাতুটির দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে ভাবনার উদ্রেক করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪০৬৬ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর একদিন আগেই, বুধবার, স্বর্ণের দাম ১ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছিল। একই সময়ে, আগস্টে ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দামও শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে। তবে, স্বর্ণের দাম কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের গভীরতা এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার ইঙ্গিত দেয়।

স্বর্ণের বাজারে এই মূল্যহ্রাসের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক সমঝোতা স্মারক আর কার্যকর থাকবে না বলে জানান। এই ঘোষণার অল্প সময়ের মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানায়। এই ঘটনাপ্রবাহ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। বুধবার প্রায় ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পর বৃহস্পতিবারও তেলের দাম উর্ধ্বমুখী ছিল। পাশাপাশি, ডলারের বিনিময় হার এবং বিশ্ব শেয়ারবাজারেও কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রাখতে বাধ্য হতে পারে, এমনকি প্রয়োজনে আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ শতাংশে নামিয়েছে। অন্যদিকে, ব্যাংক অব আমেরিকা তাদের ২০২৬ সালের জন্য স্বর্ণের গড় মূল্য পূর্বাভাস ১৪ শতাংশ কমিয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬০ ডলার নির্ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে ফেডের সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতিকে উল্লেখ করেছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও প্রভাব পড়েছে। স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ১৩ ডলারে নেমেছে। তবে, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারের বৈচিত্র্যময় চিত্র তুলে ধরেছে।