শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএমখালি ইউনিয়নের বেবী বেগমের শেষ সম্বল ছিল তাঁর ছেলে ইমাম হোসেন আকাশ। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট একটি রাজনৈতিক আন্দোলনে গুলিতে তিনি শহীদ হন। এরপর থেকে দুই বছর ধরে সন্তানের কবরের পাশে অশ্রু ঝরিয়ে আল্লাহর কাছে তাঁর মাগফিরাত কামনা করে কষ্টের দিন কাটাচ্ছেন বেবী বেগম। সন্তানের মৃত্যুর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি নিয়মিত কোনো সরকারি ভাতা পাচ্ছেন না।
জানা যায়, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ দেখার স্বপ্ন নিয়ে মাকে না জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন আকাশ। ঢাকার মিরপুরে বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। আকাশের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশে ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরে পাবে মানুষ এবং তাঁর মায়ের মুখে হাসি ফুটবে। এই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই তিনি প্রতিদিন আন্দোলনে যেতেন। হাসিনার পতনের একদিন আগে ৪ আগস্ট গুলিতে আহত হন আকাশ এবং সন্ধ্যায় মুগদা হাসপাতালে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। পরে অনেক কষ্টে তাঁর লাশ শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএমখালি ইউনিয়নের মাদবর কান্দি গ্রামে নানার বাড়িতে দাফন করা হয়।
তরুণ এই শহীদের মা বেবী বেগম জানান, আকাশের বয়স যখন দুই বছর, তখন তাঁর বাবা মতিউর রহমান তাঁদের ছেড়ে আরেকটি বিয়ে করে কুমিল্লায় চলে যান। পরে তিনি একাই ছেলের মা ও বাবার দায়িত্ব নিয়ে ভাইদের সহায়তায় ঢাকায় থেকে তাঁকে মানুষ করার চেষ্টা করেন। আকাশ এসএসসি পাস করার পর তাঁর কষ্ট দূর করার জন্য একটি কোম্পানিতে চাকরিও নিয়েছিল।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুবকর সিদ্দিক বলেন, শহীদ ইমাম হোসেন আকাশ নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে দিশারী হয়ে জীবন দিয়েছেন। প্রতি বছর ৫ আগস্ট উপজেলার ডিএমখালির মাদবর কান্দিতে তাঁর কবরে ফুল দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শহীদদের পরিবারের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ এলে আকাশের মাকে গুরুত্ব দিয়ে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 





















