ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় ভারতের শেয়ারবাজারে ধস, ৮ লাখ কোটি রুপি গায়েব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির সমাপ্তি ঘোষণা করার পর ভারতের শেয়ারবাজারে তীব্র ধস নেমেছে। এই ঘটনায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় আট লাখ কোটি রুপি বাজারমূল্য উধাও হয়ে গেছে। এদিন দেশের প্রধান শেয়ার সূচক সেনসেক্স এবং নিফটি উভয়ই বড় ধরনের পতনের শিকার হয়। ট্রাম্পের ঘোষণার পর ভারত ছাড়াও বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজারেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।

গতকাল বুধবার ভারতের প্রধান শেয়ার সূচক নিফটি ২ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৮৮২ দশমিক ০৫ পয়েন্টে এবং বিএসই সেনসেক্স ২ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ৭৬ হাজার ৫০৩ দশমিক ৬০ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে। গত তিন মাসের মধ্যে এটি উভয় সূচকের সবচেয়ে বড় পতন। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

নতুন করে সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। এর প্রভাবে ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচকও তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দিনের মুখোমুখি হয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারেও পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচারও প্রায় ১ শতাংশ করে কমে গেছে। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে দেশটির আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এদিন ভারতীয় রুপি শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ দুর্বল হয়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে ৯৫.৫৫৫ রুপিতে নেমে আসে।

ওয়েলথমিলস সিকিউরিটিজের ইক্যুইটি স্ট্র্যাটেজির পরিচালক ক্রান্তি বাথিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবার জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ভারতের শেয়ারবাজার ও সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির বিষয়। তার মতে, এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন করে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে, যা ঘুরে দাঁড়ানোর পথে থাকা বাজারের পুনরুদ্ধারকে ধীর করে দিতে পারে। বাজার সংশ্লিষ্ট দুই ট্রেডার জানিয়েছেন, দিনের শেষভাগে বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপের পেছনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ও শিশুপুত্র নিহত, অপর সন্তান গুরুতর আহত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় ভারতের শেয়ারবাজারে ধস, ৮ লাখ কোটি রুপি গায়েব

আপডেট সময় : ১০:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির সমাপ্তি ঘোষণা করার পর ভারতের শেয়ারবাজারে তীব্র ধস নেমেছে। এই ঘটনায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় আট লাখ কোটি রুপি বাজারমূল্য উধাও হয়ে গেছে। এদিন দেশের প্রধান শেয়ার সূচক সেনসেক্স এবং নিফটি উভয়ই বড় ধরনের পতনের শিকার হয়। ট্রাম্পের ঘোষণার পর ভারত ছাড়াও বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজারেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।

গতকাল বুধবার ভারতের প্রধান শেয়ার সূচক নিফটি ২ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৮৮২ দশমিক ০৫ পয়েন্টে এবং বিএসই সেনসেক্স ২ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ৭৬ হাজার ৫০৩ দশমিক ৬০ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে। গত তিন মাসের মধ্যে এটি উভয় সূচকের সবচেয়ে বড় পতন। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

নতুন করে সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। এর প্রভাবে ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচকও তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দিনের মুখোমুখি হয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারেও পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচারও প্রায় ১ শতাংশ করে কমে গেছে। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে দেশটির আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এদিন ভারতীয় রুপি শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ দুর্বল হয়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে ৯৫.৫৫৫ রুপিতে নেমে আসে।

ওয়েলথমিলস সিকিউরিটিজের ইক্যুইটি স্ট্র্যাটেজির পরিচালক ক্রান্তি বাথিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবার জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ভারতের শেয়ারবাজার ও সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির বিষয়। তার মতে, এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন করে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে, যা ঘুরে দাঁড়ানোর পথে থাকা বাজারের পুনরুদ্ধারকে ধীর করে দিতে পারে। বাজার সংশ্লিষ্ট দুই ট্রেডার জানিয়েছেন, দিনের শেষভাগে বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপের পেছনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।