মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ‘হত্যার তালিকায়’ তিনি নিজেই শীর্ষে রয়েছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি তালিকায় হত্যার তালিকায় তার নাম এক নম্বরে রয়েছে। তবে তিনি টিকটকে এক নম্বরে থাকতে বেশি আগ্রহী। তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি কাতারের উপহার দেওয়া বোয়িং উড়োজাহাজে দেশে ফিরবেন না, বরং পূর্বের ব্যবহৃত এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফিরবেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবরে জানা যায়, ইরান হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা ও নৌযানে হামলা করে। পরে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হননি।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, তেহরান বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করছে এবং এ নিয়ে তিনি ‘মোটেও সন্তুষ্ট নন’। তার দাবি, ইরান জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তিনি ইরানকে গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে ‘মধ্যপ্রাচ্যের দাদাগিরি করা রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি না, ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি টিকবে।’ তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক হামলা চালাবে। তার দাবি, মার্কিন বাহিনী এক রাতেই ইরানের ২৮টি নৌযান ধ্বংস করেছে এবং প্রয়োজনে আরও নৌযান লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। ট্রাম্পের মতে, ‘ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক বোমা থাকত, তবে তারা সেটি ব্যবহার করত।’
কূটনৈতিক সমঝোতা না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে দেবে না বলে ট্রাম্প জানান। তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে, যদিও তিনি আশা করেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না।
রিপোর্টারের নাম 






















