ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

শিক্ষিকার ওপর অভিভাবকের হামলা: চুয়াডাঙ্গায় তোলপাড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৯:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে অফিসকক্ষে ঢুকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষকমহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে বিদ্যালয়ের পাশের ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রথমে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং পরে প্রধান শিক্ষিকার অফিসকক্ষে ঢুকে কাবেরী করিমকে আচমকা চড়-থাপ্পড় মারেন। এ সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত কয়েকজন তাকে নিবৃত্ত করে বাইরে নিয়ে যান।

জানা গেছে, সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য (৯) ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের সমাবেশ চলাকালে সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলায় প্রধান শিক্ষক তাকে শাসন করেন এবং গালে একটি চড় দেন। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত সামসউর রহমান শুভর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের যেমন স্নেহ করি, তেমনি প্রয়োজন হলে শাসনও করি। ওই শিক্ষার্থীকে আলতোভাবে একটি চড় দিয়েছিলাম। কিন্তু এ কারণে একজন অভিভাবক আমার অফিসে ঢুকে আমার গায়ে হাত তুলবেন, তা কখনো ভাবিনি। এখন বিদ্যালয়ে যেতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আবারও হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছি।’

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোয়াইব হোসেন বলেন, ‘কোনো অভিভাবকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। আমরা ঘটনার নিন্দা জানাই এবং ভুক্তভোগী শিক্ষকের পাশে রয়েছি।’

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে যায়। পরে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর অ…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ও শিশুপুত্র নিহত, অপর সন্তান গুরুতর আহত

শিক্ষিকার ওপর অভিভাবকের হামলা: চুয়াডাঙ্গায় তোলপাড়

আপডেট সময় : ১০:২৯:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে অফিসকক্ষে ঢুকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষকমহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে বিদ্যালয়ের পাশের ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রথমে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং পরে প্রধান শিক্ষিকার অফিসকক্ষে ঢুকে কাবেরী করিমকে আচমকা চড়-থাপ্পড় মারেন। এ সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত কয়েকজন তাকে নিবৃত্ত করে বাইরে নিয়ে যান।

জানা গেছে, সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য (৯) ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের সমাবেশ চলাকালে সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলায় প্রধান শিক্ষক তাকে শাসন করেন এবং গালে একটি চড় দেন। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত সামসউর রহমান শুভর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের যেমন স্নেহ করি, তেমনি প্রয়োজন হলে শাসনও করি। ওই শিক্ষার্থীকে আলতোভাবে একটি চড় দিয়েছিলাম। কিন্তু এ কারণে একজন অভিভাবক আমার অফিসে ঢুকে আমার গায়ে হাত তুলবেন, তা কখনো ভাবিনি। এখন বিদ্যালয়ে যেতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আবারও হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছি।’

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোয়াইব হোসেন বলেন, ‘কোনো অভিভাবকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। আমরা ঘটনার নিন্দা জানাই এবং ভুক্তভোগী শিক্ষকের পাশে রয়েছি।’

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে যায়। পরে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর অ…