শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে জন্মের পর থেকেই এবং স্কুলে ভর্তির আগে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানো জরুরি। এরপর অভিভাবকদের নিয়মিত সন্তানের চোখের ওপর মনোযোগ রাখতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, চোখ থেকে পানি পড়া, কথা বলার সময় বা কিছু দেখার সময় চোখ কুঁচকে ফেলা, কিংবা এক চোখ ঢেকে রাখা বা ঘন ঘন চোখ ঘষার মতো কোনো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে কিনা। এগুলোর মধ্যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা গেলেই আর সময় নষ্ট না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
তবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে কিছু প্রাথমিক দায়িত্ব বাবা-মায়েরও রয়েছে। প্রথমত, শিশুর হাতে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। মোবাইল, ট্যাব বা কম্পিউটারের স্ক্রিন শিশুদের চোখে মারাত্মক চাপ ফেলে। কোনোভাবেই যেন তারা টানা ২০-৩০ মিনিটের বেশি স্ক্রিনে চোখ না রাখে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন যে শিশুকে ডিভাইস থেকে দূরে রাখা কঠিন। তা সত্ত্বেও, তাদের হাতে যতটা কম সময় ডিভাইস দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখবেন, বাবা-মায়ের হাতে ডিভাইস থাকলে শিশুরাও তা চাইবে—তাই এই বিষয়ে নিজেরাও রোল মডেল হওয়া প্রয়োজন।
প্রাকৃতিক আলো এবং বাইরে খেলার সুযোগ দেওয়া শিশুর চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শহুরে জীবনে এটি কঠিন হলেও এর প্রয়োজনীয়তা এখন অভিভাবকরা বুঝতে পারছেন। রোদে বাইরে খেলার অভ্যাস শিশুর চোখের জন্য খুব ভালো, কারণ প্রাকৃতিক আলো চোখের পেশিগুলোকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তত্ত্বাবধানে শিশুকে ছাদে বা উন্মুক্ত স্থানে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন, যেখানে তারা অ্যাপার্টমেন্টের অন্য শিশুদের সাথে মিলেমিশে খেলার সুযোগ পাবে। তবে খেলার সময় অবশ্যই ধারালো খেলনা বা জিনিস থেকে শিশুদের সাবধানে রাখতে হবে।
শিশুর চোখের যত্নে খাবারে মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাদের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার যেমন গাজর, লাল শাক, কুমড়ো, ডিম, দুধ এবং মাছ অন্তর্ভুক্ত করুন। ভিটামিন-এ-এর জন্য গাজর, লাল শাক, কুমড়া, লিভার, ও ডিমের কুসুম, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের জন্য সামুদ্রিক মাছ (স্যালমন, সার্ডিন, ইলিশ), বাদাম ও আখরোট, ভিটামিন সি ও ই-এর জন্য কমলা, পেয়ারা, স্ট্রবেরি, সূর্যমুখী তেল ও আমন্ড এবং জিঙ্ক-এর চাহিদা মেটাতে মাংস, ডাল, বাদাম ও কুমড়ার বীজ খাওয়ান।
খুব সতর্ক থাকতে হবে যেন শিশু টিভি, মোবাইল বা ট্যাবলেটের সামনে একটানা বসে না থাকে। প্রতি ২০-৩০ মিনিট পর পর তাদের বিরতি দিন। ঘরের অন্ধকারে পড়াশোনা বা স্ক্রিন ব্যবহার একেবারেই অনুচিত। পড়াশোনার সময় পর্যাপ্ত ও উজ্জ্বল আলোতে বসানো নিশ্চিত করা জরুরি। সর্বোপরি, বছরে অন্তত একবার শিশুর চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।
রিপোর্টারের নাম 
























